নিউ ইয়র্ক: রাত পোহালেই বিশ্বকাপের ফাইনাল। অথচ খেতাবি লড়াইয়ের আগে প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পেল না আর্জেন্তিনা। তা নিয়ে কোচ লায়োনেল স্কালোনির গলায় বিরক্তির সুর। তবে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে কোনোরকম অজুহাতের পথে হাঁটতে নারাজ তিনি। ফাইনালের দু’দিন আগে বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ফিফা। নিউ ইয়র্কের জাভিটস সেন্টারের ফেস্টে দুই দলের কোচ ও অধিনায়কের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য জগতের তারকারাও। সেখানেই স্কালোনি বলেন, ‘ফাইনালের আগে ফুটবলারদের তরতাজা রাখাই আমার লক্ষ্য। তাই বিশ্রামের উপর জোর দিচ্ছি। তবে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ঠিকঠাক অনুশীলনের সময় পেলাম কোথায়!’ উল্লেখ্য, বুধবার সেমি-ফাইনাল খেলে আটালান্টাতেই রিকভারি সারেন মেসিরা। তারপর বৃহস্পতিবার রাতে নিউ ইয়র্ক পৌঁছায় গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। শুক্রবার প্রবল গরমের মধ্যেই ভরদুপুরে অনুশীলন করেন মেসিরা। কারণ তার পরেই যে দৌড়তে হয়েছে ফিফা’র ফেস্টে।
বিশ্বের দ্বিতীয় কোচ হিসেবে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি স্কালোনির সামনে। এর আগে ইতালির ভিত্তোরিও পাজ্জো (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এই নজির গড়েছিলেন। স্কালোনি অবশ্য রেকর্ড নিয়ে ভাবতে নারাজ। বরং তাঁর একটাই লক্ষ্য, দলকে আবারও সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়া। স্কালোনির কথায়, ‘রবিবারের লড়াইটা আমাদের কাছে আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই। স্পেনকে নিয়ে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। ম্যাচের আগে শেষ প্রস্তুতিতে সেটার উপর জোর দেওয়া হবে। এই ম্যাচটার জন্য সেই ডিসেম্বর মাস থেকেই পর্যালোচনা করছি। ফাইনালে তার সফল প্রতিফলন ঘটাতে প্রত্যেকেই মুখিয়ে রয়েছে।’
স্পেন বনাম আর্জেন্তিনা দ্বৈরথ নিয়ে স্কালোনির পরিবার দ্বিধাবিভক্ত। খেলোয়াড় জীবন থেকেই স্পেনেই থাকেন মেসিদের হেড স্যার। তাঁর স্ত্রী এলিসা মনতেরো একজন স্প্যানিয়ার্ড। দেশের হয়ে ভলিবলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দুই ছেলেরও জন্ম স্পেনে। তাই ফাইনালের আগে তাঁরা কাকে সাপোর্ট করবেন, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। স্কালোনি অবশ্য সাফ জানিয়েছেন, ‘দেশের কোচ হিসেবে আমার দীর্ঘ লড়াইয়ের সাক্ষী ওরা। তাই স্ত্রী ও দুই ছেলে আর্জেন্তিনার হয়েই গলা ফাটাবে। সর্বদাই আমার পাশে থেকেছে পরিবার। ফাইনালের আগেও আমাকে উদ্দীপ্ত করেছে ওরা।’