নিউ জার্সি: ‘স্পেন বিশ্বকাপ জিতলে পরের দিনই অবসর নেব। কারণ, ইউরো কাপ ও বিশ্বকাপের পর আর নতুন করে আমার কিছু পাওয়ার থাকবে না। সেই সঙ্গে নিজের হাতে কোচের ট্যাটু বানাব’— বক্তার নাম মার্ক কুকুরেয়া। কিন্তু, কেউ কি জানেন, হাসিখুশি স্প্যানিশ ডিফেন্ডারের ব্যক্তিগত জীবনের কষ্টের কথা? ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত।
২০২৫ সালের কথা। স্ত্রী ক্লডিয়া রডরিগেজকে পাশে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বসেছেন কুকুরেয়া। সেখানেই জানালেন, বড়ো ছেলে মাতেও অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত। বাবা-মা হিসেবে এই পরিস্থিতির জন্য তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না। ২০১৯ সালে মাতেওর জন্ম। ঘরে গান বাজলে, ছেলেও হাত নাড়াত। তাঁরা ভেবেছিলেন, এটা আনন্দের নাচ। কিন্তু ভুল ভাঙল ছেলেকে স্কুলে ভরতি করার পর। কাঁদার জন্য দু’তিন ঘণ্টা পরই বাড়ি নিয়ে আসতে হত। ডাক্তার জানান, বাকিদের মতো নয় মাতেও। কুকুরেয়া বলছিলেন, ‘ছেলের কষ্ট দেখে খুব অসহায় লাগত নিজেকে।’ এরপরেই কেঁদে ফেলেন কুকুরেয়া।
সেই চোখের জল আর স্পেনের রক্ষণের অন্যতম স্তম্ভ আসলে একই মানুষের গল্প। যিনি সবুজ গালিচায় বিপক্ষের আক্রমণ আটকান আর ঘরে নীরব সন্তানের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। দুটোই কুকুরেয়ার কাছে সমান লড়াই, সমান জয়। ছেলের মুখের হাসিই তাঁকে মাঠে লড়াইয়ের শক্তি দেয়।