নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: দীর্ঘদিন ধরে রানাঘাট হাসপাতালে বন্ধ এক্স-রে পরিষেবা। আউটডোরে ইউএসজি করতে এসেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। মহকুমা হাসপাতালের জোড়া পরিষেবায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে সরব রানাঘাট নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি। বুধবার তারা হাসপাতালে একটি প্রতিবাদ সভা ও ডেপুটেশন জমা দেয়।
ভৌগোলিক কারণে নদীয়া জেলায় রানাঘাট শহর ঠিক যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালও। কারণ, শুধুমাত্র রানাঘাট শহরবাসী নন, আনুলিয়ায় অবস্থিত এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল রানাঘাট মহকুমার দূর দূরান্তের মানুষ। সীমান্ত এলাকা ধানতলার দত্তপুলিয়া, কিংবা হাঁসখালির বগুলা, বহিরগাছি থেকে রানাঘাট-২ ব্লকের গাংনাপুর, কুপার্স ক্যাম্প সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন। রানাঘাট-১, শান্তিপুর ব্লকগুলি থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে চিকিৎসা করাতে আসেন।
সম্প্রতি স্বল্প পরিকাঠামোর মধ্যেও বেশকিছু জটিল অপারেশন করে তাক লাগিয়ে দেন এই হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তাতে হাসপাতালের ডাক্তারদের প্রতি রোগীদের আস্থা বেড়েছে। কিন্তু, আস্থা বাড়লেও পরিকাঠামোর অভাব রয়েই গিয়েছে। এক্স-রে শুধুমাত্র ভাঙা চোরা নয়, শল্য বিভাগের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র। বর্তমান যুগে গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের আগে এক্স-রে করার প্রয়োজনীয়তা থাকে। কিন্তু, দীর্ঘদিন ধরে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছিল একটি বহু পুরনো এক্স রে মেশিন দিয়ে। পরবর্তীতে অবশ্য নতুন মেশিন এসে পৌঁছয়। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সেই পরিষেবা চালু করা যায়নি। ফলে রোগীদের এক্স-রে করতে গেলে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
শুধু এক্স-রে নয়, ইউএসজি বিভাগ ধুঁকছে কর্মী সঙ্কটে। মাত্র একজন কর্মী থাকায় আউটডোরে চিকিৎসা করাতে আসা এবং ইউএসজির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এমন রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া যাচ্ছে না। আবেদনের ছ’মাস পর রোগীদের ইউএসজির তারিখ দেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক এই নাগরিক সমস্যা নিয়েই তিন দফা দাবি নিয়ে সরব রানাঘাটে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা সমিতি। বুধবার তাদের তরফে হাসপাতাল সুপার প্রহ্লাদ অধিকারীর কাছে একটি ডেপুটেশন দেওয়া হয়। তাতে দ্রুত রেডিওলজিস্ট নিয়োগ, ডিজিটাল এক্স-রে পরিষেবা চালু এবং সিটি স্ক্যান পরিষেবা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জয়দেব মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা ডেপুটেশন দিয়েছি। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত সমাধানের আশা করছি।
রানাঘাট হাসপাতালের সুপার বলেন, ইউএসজি বিভাগের জন্য কর্মী চেয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। এক্স-রে বিভাগে নতুন ডিজিটাল মেশিন বসে গিয়েছে।