Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পারিবারিক বিবাদের জেরে জিয়াগঞ্জে বাবার বিরুদ্ধে ছেলেকে কোপানোর লিখিত অভিযোগ দায়ের, ধৃত

পারিবারিক বিবাদের জেরে ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। বুধবার রাতের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় জিয়াগঞ্জে।

পারিবারিক বিবাদের জেরে জিয়াগঞ্জে বাবার বিরুদ্ধে ছেলেকে কোপানোর লিখিত অভিযোগ দায়ের, ধৃত
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: পারিবারিক বিবাদের জেরে ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল বাবার বিরুদ্ধে। বুধবার রাতের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় জিয়াগঞ্জে। পুলিস জানিয়েছে, আক্রান্ত যুবকের নাম পিন্টু শেখ। অভিযুক্ত বাবা আইজুল শেখকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। জিয়াগঞ্জ থানার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, পারিবারিক কোনও পুরনো বিষয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত তার ছেলেকে কোপায়। লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। 

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জিয়াগঞ্জ হাইস্কুল পাড়ার বাসিন্দা পিন্টু শেখ বুধবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর বাড়ি থেকে বের হয়। রাস্তায় কিছুটা হাঁটাহাঁটির পর বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় আইজুল শেখ আচমকাই পিছন দিক থেকে এসে চাকু দিয়ে ছেলেকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। পিন্টু শেখের চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় আক্রান্ত যুবককে উদ্ধার করে জিয়াগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে এবং আটকে রাখেন। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিকে আক্রান্ত যুবকের  শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর ওই যুবকের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।  পিন্টু শেখ বলেন,  বাবার স্বভাবচরিত্র ভালো নয়। আমার অনুপস্থিতিতে স্ত্রীকে একাধিকবার কুপ্রস্তাব দেয়। লোকলজ্জার ভয়ে স্ত্রী প্রথম দিকে বিষয়টি চেপে গেলেও পরে বাধ্য হয়ে আমাকে জানায়। তখন আমি বিষয়টি সমাজের কাছে তুলে ধরে বিচার চাই। সমাজের বিচারে বাবাকে ঘর ছাড়া করে বাইরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় । তারপর থেকেই আমাকে মারার পরিকল্পনা করে। আগেও একাধিকবার প্রাণে মারার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এদিন ইফতারের পর রাস্তায় বেরিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর ফিরছিলাম। রাস্তার কোথায় লুকিয়ে ছিল। বাড়ির কাছে আসতেই পেছন থেকে এলোপাতাড়ি চাকু চালায়। লোকজন ছুটে না এলে আমাকে মেরেই ফেলত। হাইস্কুল পাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, বাবা ও ছেলের মধ্যে বিবাদ চলছিল। তার জন্য বাবা তার নিজের ছেলেকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করবে এটা ভাবতেই কেমন লাগছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে জিয়াগঞ্জ ফুলতলায় জামাইবাবুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে শ্যালকের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ২৪ ঘন্টা না কাটতেই হাইস্কুল পাড়ার ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নাগরিকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ