১০৮ নরখুলি দিয়ে পুজো দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের করুণাময়ী কালীর
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: ঘন জঙ্গলে ঢাকা নির্জন শশ্মান ও আদিগঙ্গার তীরে এককালে পুজো শুরু হয়েছিল করুণাময়ী কালীর। সে মন্দিরে আছে ১০৮টি নরখুলি। প্রতিমার ঠিক পিছনে রাখা খুলিগুলি। আর পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে মায়ের পুজো হয়। কালীপূজোয় করুণাময়ীর পাশাপাশি উপদেবতা, ডাকিনি-যোগিনীদের মদ, কাঁচা মাংস, ছোলা ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। পুজোর পর গভীর রাতে ভোগ দেওয়া হয় শিয়ালদেরও।

Advertisement

এই মন্দিরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তীর নাম। কথিত, তিনি তন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এই নির্জন শশ্মান ও অরণ্যে সাধনা শুরু করেন। একদিন করুণাময়ীর স্বপ্নাদেশ পান। এরপরে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করে শুরু করেন পুজো। পরে এখানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণ হয়। পঞ্চমুণ্ডির আসনও বসানো হয়। 
মন্দিরে দেবীর পিছনে রাখা ১০৮ নরখুলি। তন্ত্রমতে পুজো হলেও এখানে পশুবলি হয় না। বৈষ্ণব ও তান্ত্রিক রীতির সমন্বয়ে চলে আরাধনা। সন্ধ্যার পর গা ছমছম পরিবেশে চলে পুজো। সাধক মণিলালের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শ্যামল চক্রবর্তী ও চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যরা পুজো করছেন। মন্দিরে পুজো দেখতে আসেন দূর দুরান্তের মানুষ। ৮৩ বছর বয়সি শ্যামলবাবু বলেন, ‘৪০০ বছরের পুজো। ১২ বছর বয়স থেকে মায়ের আরাধনা করছি। ১০৮ জবা ১০৮ নরখুলিতে নিবেদন করা হয়।’  নিজস্ব চিত্র