নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত শহরজুড়ে রয়েছে থিম নির্ভর কালীপুজোর চল। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে লোককথাও। এই শহরের মধ্যেই রয়েছে একটি ডাকাত কালীবাড়ি। যেখানে রয়েছে একটি অশ্বত্থ গাছ। এই গাছকে ঘিরেই রয়েছে বহু জনশ্রুতি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত শহরজুড়ে রয়েছে থিম নির্ভর কালীপুজোর চল। কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে লোককথাও। এই শহরের মধ্যেই রয়েছে একটি ডাকাত কালীবাড়ি। যেখানে রয়েছে একটি অশ্বত্থ গাছ। এই গাছকে ঘিরেই রয়েছে বহু জনশ্রুতি।
বারাসত শহরের তিন কিলোমিটার দূরে রয়েছে জরাজীর্ণ একটি ডাকাত কালীবাড়ি। বহু ঝড়-ঝাপটা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় গেলেও পুরনো ইট আজও একইভাবে আগলে রেখেছে মন্দিরটিকে। এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে একটি প্রকাণ্ড অশ্বত্থ গাছ। জীর্ণ এই মন্দিরের বয়স প্রায় ৫০০ বছর। রঘু ডাকাত ও তার শাগরেদরা ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে এই মন্দিরে মায়ের আরাধনা করতেন নিষ্ঠা ভরে। এই অশ্বত্থ গাছকেই পুজো করতেন তাঁরা। বিশ্বাস ছিল, এই অশ্বত্থই স্বয়ং মা কালী। ডাকাতি করতে গেলে মায়ের আশীর্বাদ লাগে। শুধু ডাকাতি করতে যাওয়ার সময় নয়, ফিরে এসেও ডাকাতরা মন্দিরে পুজো দিতেন বলে কথিত আছে। এটি বারাসতের অন্যতম পুরনো কালীমন্দির। এছাড়াও এই মন্দিরের আরও একটি বিশেষত্ব হল, কাঠোর রোডের ডাকাত কালীবাড়িতে কোনও পুরোহিত নেই। ভক্তরা নিজেরাই এই মন্দিরের পুরোহিত।
স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ বিশ্বাস বলেন, রঘু ডাকাত ও তাঁর দলবল মূর্তি পুজো করতেন না। এই অশ্বত্থ গাছকেই মা কালী ভেবে ভক্তি ভরে পুজো করতেন। সেই রীতি ও আচার এখনও চলছে। প্রতিদিন ভক্তরা এখানে এসে পুজো দিয়ে যান। দূর-দূরান্ত থেকেও ভক্তরা আসেন। অনেকেই এই অশ্বত্থ গাছের নীচে পুজো দিয়ে মানত করে যান। প্রত্যেকের সেই ইচ্ছাপূরণ
করেন মা কালী। কালীপুজোর দিন সারারাত ধরে পুজো হয় মায়ের। তবে অমাবস্যায় ভক্তদের ভিড় থাকে বেশি। আরেক প্রবীণ বাসিন্দা দেবদাস চক্রবর্তীর কথায়, গাছের যে অংশকে পুজো করা হয়, সেটি মানবদেহের মতো। নাভির চিহ্ন সুস্পষ্ট। যতদিন যাচ্ছে, হাতের ছাপ ও নাভির চিহ্ন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। - নিজস্ব চিত্র