সুজয় সরকার, হিলি: মনসারূপে দেবী দুর্গার আরাধনা বালুরঘাটের ফুলঘরা গ্রামে। মনসা ও দুর্গা এখানে মিলেমিশে একাকার। পুজোয় এই গ্রামের মানুষ মনসারূপী দেবী দুর্গার পুজোয় মেতে ওঠেন। এবছরও ফুলঘরা বারোয়ারি মনসামঙ্গল ক্লাবের উদ্যোগে শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।
হঠাৎ করে মনসারূপী এই দুর্গা পুজো শুরু হয়নি। স্থানীয়দের দাবি , প্রায় ৩৫০ বছর আগে ফুলঘরা গ্রামে দেবী মনসার পুজোর প্রচলন হয়েছিল। এই পুজো প্রচলনকে ঘিরে একাধিক কাহিনি প্রচলিত আছে। দু’টি জনশ্রুতির একটিতে বলা হয়, বহুবছর আগে গ্রামে একদল সাপুড়ে এসেছিল। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবাদের জেরে প্রতিশোধ নিতে গ্রামে সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতেই গ্রামবাসীরা মনসা পুজো শুরু করেন। অন্যটি, গ্রামের এক বাসিন্দাকে স্বপ্নাদেশে দেবী মনসা নির্দেশ দেন, পার্শ্ববর্তী আত্রেয়ী নদীতে ভেসে থাকা কাঠামো এনে পুজো করতে। যার ফলে শুরু হয় মনসা পুজো। তারপর থেকে গ্রামে প্রতিবছর দুর্গাপুজোতে এখানে নিয়মিত মনসাপুজো হয়ে আসছে।
শুধু প্রাচীনত্ব নয়, ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যেও স্বতন্ত্র ফুলঘরার এই পুজো। এখানে দেবীর হাতে কোনও অস্ত্র থাকে না। দেবীর চার হাতে থাকে চারটি সাপ। মাথার উপর ফনা তুলে ছড়িয়ে থাকে বিশালাকার পঞ্চনাগ। দেবী প্রতিমার বামদিকে থাকে সরস্বতী। ডান দিকে থাকে লক্ষ্মী। তবে থাকে না গণেশ ও কার্তিক। প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে পুজোর নিয়মরীতি-সবকিছুতে পুরনো রীতিকে কঠোরভাবে মানা হয়।
গ্রামের বাসিন্দা বিনিময় মহন্ত জানান, রীতি অনুযায়ী বিগত বছরের প্রতিমার কাঠামোর টুকরোকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গ্রামের পাকা মন্দিরে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। পুজোয় প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়। ফুলঘরা গ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর, দুর্লভপুর, খাসপুর, দেবীপুর, বোয়ালদার গ্রামের মানুষ আসেন। ষষ্ঠীতে বোধন থেকে দশমী- সবকিছুই হয় দুর্গা পুজোর নিয়ম মেনে। এবছরও ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত মনসামঙ্গল গান হবে।
দশমীর একদিন পর দ্বাদশীতে দেবীর নিরঞ্জনের দিন এখানে মেলা বসে।
পুজো কমিটির সভাপতি ভজন মণ্ডল বলেন, যে নিয়ম, তিথি ও নির্ঘণ্ট মেনে দুর্গাপুজো হয়, সেভাবেই এখানে মনসার পুজো হয়।