নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় ট্রামের জন্মদিন পালন। সে উপলক্ষ্যে শহরের রাস্তায় চলবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের একটি ট্রাম। দেড়শ বছর পার করেও শহর এখনও তাকে ভুলে যায়নি। অনেকে বলছেন, ‘বিষয়টি আশা জাগাচ্ছে।’ পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য, ‘যদিও এখন ট্রামে চড়তে চাইলে মানুষকে গুগলের সাহায্য নিয়ে জানতে হয়-কোন রুটে কখন পাওয়া যাবে?’ তারপর তা জানতে কালঘাম ছোটে। কারণ অধিকাংশ রুট গিয়েছে উঠে। বাকি রুটে হাতেগোনা কয়েকটি মাত্র ট্রাম চলে। ফলে কলকাতায় তার দেখা পাওয়া আর লটারিতে টাকা জেতা প্রায় একইরকম রোমাঞ্চকর।
এই যান নাকি মন্থর, জ্যামজটের কারণ, তার লোহার লাইনে চাকা পড়লে পিছলে যায় নাকি বাইক। এই এতশত অভিযোগের ভারে এমনিতেই ধুঁকছিল প্রাচীন যানটি। তারপর প্রায় বন্ধের মুখে। সে হেন ট্রামেরও জন্মদিন উদযাপন! বিষয়টি আশাপ্রদ। শহরের পথে নামবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কলকাতাতেই তৈরি একটি ট্রাম। মঙ্গলবার সকালে গড়িয়াহাট ডিপো থেকে ধর্মতলা হয়ে যাবে শ্যামবাজার পর্যন্ত।
একটা সময় ট্রাম কোম্পানি নিয়ন্ত্রিত হত সুদূর ইংল্যান্ড থেকে। সেখান থেকে নির্দেশ আসত, কতগুলি ট্রাম তৈরি করতে হবে। মজার বিষয়, হুকুম ঠিকমতো পালন না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ছাঁটাই হত। ‘এগুলো লিখিত নয়। গল্প এরকমই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি বোমা পড়ার জন্য হত ব্ল্যাকআউট। তখন মোমবাতির আলোয় ট্রাম তৈরি করতে হয়েছিল নোনাপুকুর ডিপোতে,’ গল্প শোনাচ্ছিলেন জন্মদিন উদযাপনকারী সংগঠন ‘ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন’য়ের যুগ্ম সম্পাদক সাগ্নিক গুপ্ত। মঙ্গলবার যে ট্রামটি রাস্তায় নামবে, তার নাম ‘গীতাঞ্জলি’। এখন যেরকম ট্রাম দেখা যায়, গীতাঞ্জলি তার থেকে আলাদা। সাগ্নিক জানান, এই ট্রাম টালিগঞ্জের দিকে একসময় চলত। তখন দক্ষিণ কলকাতায় ঘাসের মধ্যে পাতা ছিল ট্রামলাইন। ঘাস পেরিয়ে যেতে হত বলে সেগুলির নকশা ছিল আলাদা। তবে আটের দশকে গীতাঞ্জলি বাণিজ্যিকভাবে যাত্রী পরিবহণ বন্ধ করে। তবে তারপরও চলেছে ‘স্টাফ ট্রাম’ হিসেবে, খিদিরপুর, টালিগঞ্জ থেকে। তখন প্রায় ৭ হাজার কর্মী ছিলেন। ফলে ৬ টি স্টাফ ট্রাম ছিল। এই রকম গাড়ি ছিল দু’টি। স্টাফ কার ৫ এখন স্মরণিকা হিসেবে রয়েছে। আর স্টাফ কার ৬ রাস্তায় বেরবে। এটি হেরিটেজ ট্রাম হিসেবে ঘোষিত হয় ২০১৪ সালে। কেউ যদি চান তবে সেটি ভাড়া নিতে পারেন। এই ট্রাম এখন নোনাপুকুরে থাকে। কারণ এখন তো ধর্মতলা-শ্যামবাজার আর গড়িয়াহাট-ধর্মতলা রুটেই চলে ট্রাম।
সাগ্নিকদের দাবি, ‘সারা কলকাতাতেই ট্রামলাইন পাতা আছে। সব ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ট্রাম চালাচ্ছে না, তাই চলছে না। এ বছর আমরা বলতে চাই, সারা বিশ্ব যেখানে ট্রাম নিয়ে আসছে। চালাচ্ছে। আর দূষণ নিয়ে কলকাতা পুরসভা এত চিন্তিত তবুও পরিবেশবান্ধব যানটি তুলে দেওয়া হচ্ছে।’ এর পাশাপাশি ট্রামপ্রেমীদের বক্তব্য, ‘কলকাতার ঐতিহ্যবাহী যানটি পুনরায় পুরোপুরি চালু হোক।’