Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

খেলার ভুবন

খেলার ভুবন
  • ১৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

ব্যাডমিন্টন যখন তলোয়ার

Advertisement

আমাদের জীবনে খেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর আমার প্রিয় খেলা হল ব্যাডমিন্টন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই খেলাটি প্রথম ব্রিটেনে চালু হয়। খেলাটি অনুষ্ঠিত হয় ডিউক অব বিউফোর্ডের বাড়িতে। এই খেলার সরঞ্জাম বলতে জাল দেওয়া ব্যাট আর গাছের ছাল থেকে পাওয়া কর্ক। ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য প্রয়োজন নিখুঁত পদচারণা, হাত-চোখের সমন্বয় ও শট প্লেসমেন্ট। এই খেলায় তারাই জয়ী হয়, যারা প্রতিপক্ষের গতিবিধি বুঝতে পারে এবং নির্ভুলভাবে রেসপন্স করতে পারে। ভারতেও ব্যাডমিন্টন খেলার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। কয়েকজন উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় হলেন—সাইনা নেওয়াল, প্রকাশ পাড়ুকোন, পিভি সিন্ধু প্রমুখ।  
মধুশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়, দশম শ্রেণি 

বুদ্ধিতে বাজিমাত
দাবা একটি জটিল খেলা। যেখানে বুদ্ধি লাগে সবথেকে বেশি। বিভিন্ন কলাকৌশল অবলম্বন করতে হয়। আর সর্বোপরি যেটা প্রয়োজন সেটা ধৈর্য। দাবা খেলা শুধু একটি খেলা নয়, এটি খেলোয়াড়দের মানসিক দক্ষতা বাড়াতেও সাহায্য করে। দাবা খেলার সঙ্গে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও গণিতের গভীর সংযোগ রয়েছে। এটি খেলার পাশাপাশি মানসিক প্রশিক্ষণও বটে। জীবনে পড়াশোনার যেমন প্রয়োজন আছে, তেমনই প্রয়োজন খেলাধুলোর। খেলার মাধ্যমে মানসিক ও দৈহিক বিকাশ হয়। বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজির সঙ্গে সঙ্গে আমার প্রত্যেক দিনের রুটিনে থাকে দাবা খেলা। 
—অম্লান দেবনাথ, অষ্টম শ্রেণি

পিট্টুই আমার প্রিয়
এখনকার যুগে আমরা সকলেই ক্রিকেট, ফুটবল নিয়ে মেতে থাকি। 
আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বর্তমান প্রজন্ম মোবাইল গেমকেও প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে আমার প্রিয় খেলা হল পিট্টু বা সাতচড়া। ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় খেলা এই পিট্টু। খেলার উপকরণ খুব সহজেই জোগাড় করা যায়। সাতটি ছোট ছোট সমতল পাথরের টুকরো আর একটি বল। সত্যিই উত্তেজনাপূর্ণ, আনন্দদায়ক এই খেলা অনেকাংশে মনের ক্লান্তি দূর করে। দুই দল মিলিয়ে মোট ১২ জন এই খেলায় অংশ নেয়। এই খেলা যে শুধু আনন্দ দেয় তা নয়, পাশাপশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও সাহায্য করে। 
—শিবম সাহা, অষ্টম শ্রেণি 

ব্যতিক্রমী ক্রিকেটার
আগে অনেকেই ভাবত ক্রিকেট শুধু ছেলেদের খেলা। কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন ক্রিকেটারকে তোমার সবথেকে ভালো লাগে? একবাক্যে উত্তর আসে শচীন তেন্ডুলকর, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বা বিরাট কোহলি। আমারও যে এঁদের খেলা ভালো লাগে না, তা নয়। তবে আমার প্রিয় ক্রিকেটার ঝুলন গোস্বামী। বেশ কয়েক বছর আগেও মেয়েদের ক্রিকেটে অর্থের তেমন জোগান ছিল না। ছিল না এত বিজ্ঞাপন। কতজন মা-বাবা তাঁদের মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে পাঠাতেন? আজ সেই ধারণা বদলে অনেকেই উৎসাহিত হচ্ছেন তাঁর মেয়েকে ক্রিকেট খেলা শেখাতে। এক্ষেত্রে অনেকের আদর্শ ঝুলন গোস্বামী। যিনি মহিলা ক্রিকেটের পথ প্রদর্শক বলে আমার মনে হয়। 
—প্রীতিশা দাস, দশম শ্রেণি

ঘুঁটির কেরামতি
ক্যারাম হল জনপ্রিয় একটি ইনডোর গেম। যা কাঠের বোর্ডের উপর খেলা হয়। এই খেলায় ছোট ছোট ঘুঁটি ও স্ট্রাইকার ব্যবহার করা হয়। সর্বাধিক চারজন খেলোয়াড় এতে অংশ নিতে পারে। বোর্ডে একটি লাল রঙের ঘুঁটি থাকে যাকে ‘কুইন’ বলা হয়। আমার প্রিয় ক্যারাম খেলোয়াড় হলেন বিহারের রশ্মি কুমারী। তিনি তিনবার বিশ্ব ক্যারাম চ্যাম্পিয়নশিপ (২০০০, ২০১২, ২০২২) জিতেছেন। তাঁর ১১টি জাতীয় শিরোপা রয়েছে। তাঁর চমৎকার পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে ‘ক্যারামের রানি’ নামে পরিচিত। 
—আয়ুসী রায়, দশম শ্রেণি  

আত্মরক্ষার পথ
ক্যারাটে কেবল আত্মরক্ষার কৌশল নয়, এটা এক শৃঙ্খলার পথ। জাপান থেকে উঠে আসা এই মার্শল আর্ট আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। তার গভীরে লুকিয়ে আছে আত্মবিশ্বাসের উন্মেষ ও মানসিক বলিষ্ঠতার নিঃশব্দ আহ্বান। ক্যারাটে শেখায় মাথা নিচু রেখে চলার দীক্ষা। অর্থাৎ বিপদের মুহূর্তে রুখে দাঁড়াবার সাহস। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই এই অনুশীলনের মধ্যে খুঁজে পান এক নতুন নিজেকে। 
—তুহিন কুণ্ডু, দ্বাদশ শ্রেণি 

প্রধান শিক্ষকের কলমে

মানুষ চাইলে সবকিছু করতে পারে। সেইরকমই একজন ছিলেন শিক্ষাবিদ তথা বিজ্ঞানী ডঃ অরবিন্দনাথ বসু। ছাত্র গড়ার কারিগর। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য। স্বপ্ন দেখতেন নতুন সমাজ গঠনের। তাই নিজের অর্থে বসত বাড়িতেই তৈরি করলেন স্কুল। ২৯৩/১, রাজা রামমোহন রায় রোডে। নাম রাখা হল শ্রীঋতম বিদ্যাপীঠ। মাত্র ৩২ জন শিশুকে নিয়ে শুরু হল পথচলা। ক্রমশ বাড়তে থাকে ছাত্রছাত্রীক সংখ্যা। এরপর ডঃ অরবিন্দনাথ বসু ও রেক্টর গণদেব ভট্টাচার্যের হাতে গড়া স্কুলটির অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি অনুমোদন মেলে। ২০০৩ সালে মাধ্যমিক ও ২০০৫ সালে উচ্চ মাধ্যমিকের স্বীকৃতি মেলে। এই মুহূর্তে কলা, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিভাগ নিয়ে একটি স্বয়ং সম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্কুলে আছে লাইব্রেরি। স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানও হয় চোখে পড়ার মতো। বর্তমানে স্কুলটিতে ১ হাজার ৬০০ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। ডঃ অরবিন্দনাথ বসুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান আজ সত্যিই মহীরুহ। 
—সুব্রতকুমার মণ্ডল, প্রধান শিক্ষক

 

সংকলক: শম্পা সরকার
ছবি: দীপেশ মুখোপাধ্যায়

সম্পর্কিত সংবাদ