Bartaman Logo
২১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

বিশ্বকাপের ম্যাসকট

২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে তিনটি নতুন ম্যাসকট: ক্লাচ, ম্যাপল ও জায়ু। তাদের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব জানুন। বিস্তারিত পড়ুন।

বিশ্বকাপের ম্যাসকট
  • ২১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

এবার ফুটবল বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাসকট! কবে থেকে এল এই ম্যাসকট? সেই কাহিনি শোনালেন শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

পাড়ার মোড়ে, ক্লাবে অথবা বাড়িতে বাড়িতে উড়ছে ব্রাজিল, আর্জেন্তিনা, পর্তুগাল, জার্মানি কিংবা স্পেনের বড়ো বড়ো পতাকা। এখন চারদিকে একটাই আলোচনা। রাত জেগে খেলা দেখছে সবাই। ময়দান মার্কেটে মেসি, রোনাল্ডো, নেইমার, এমবাপেদের জার্সি কেনার জন্য কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছে। হ্যাঁ, শুরু হয়ে গিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মহোৎসব— ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপ ফুটবলের সঙ্গে প্রতিবারই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আকর্ষণ থাকে ম্যাসকট নিয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
আজ থেকে প্রায় ছিয়ানব্বই বছর আগে, ১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে ম্যাসকটের কোনো চল ছিল না। ম্যাসকটের প্রথম দেখা মেলে ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। ব্রিটিশ সিংহ আর ইউনিয়ন জ্যাকের মিশেলে সেটি তৈরি হয়। প্রথম ম্যাসকটের নাম ছিল ‘ওয়ার্ল্ড কাপ উইলি’।
এরপর ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে এল ‘জুয়ানিতো’। মাথায় মেক্সিকান টুপি আর পায়ে বল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক চঞ্চল বালক। ১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক ছিল পশ্চিম জার্মানি। ওই ওয়ার্ল্ড কাপে প্রথমবার দু’টি ম্যাসকট একসঙ্গে দেখা গেল। জুয়ানিতোর ভাবনা থেকেই তৈরি হল ‘টিপ অ্যান্ড টাপ’ নামের দুই বালক। একজনের জার্সিতে লেখা ছিল ৭৪। অন্যজনের গায়ে ছিল জার্মানির প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা ‘Wm’(ভাইমার)। এরপর ১৯৭৮ সালে আর্জেন্তিনার ম্যাসকট হয়ে এল ‘গাউচিতো’। নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সি আর বল নিয়ে সে সকলের মন জয় করেছিল।
১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে ম্যাসকটের ভাবনায় বড়ো পরিবর্তন আসে। মানুষের বদলে ম্যাসকট করা হয় একটি কমলালেবুকে। তার নাম ছিল ‘নারাজনিতো’। এর পরের বার, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ম্যাসকট হল ‘পিকে’। এটি ছিল একটি ঝাঁঝালো লঙ্কা।
১৯৯২ সালের ইতালি বিশ্বকাপে আবার নতুন কনসেপ্ট এল। এবার তৈরি হল গোলপোস্টের মতো তেকাঠি আকৃতির ম্যাসকট ‘সিয়াও’। ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপের ম্যাসকট ছিল একটা পাপেট কুকুর। তার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্ট্রাইকার’।
১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের ম্যাসকট ছিল এক গৃহপালিত মোরগ। লাল ঝুঁটি আর সামনে ফুটবল নিয়ে থাকা এই ম্যাসকটের নাম ছিল ‘ফুটিক্স’।
২০০২ সালে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে ঘটল এক যুগান্তকারী ঘটনা। এবারও ম্যাসকটের সংখ্যায় চমক ছিল। ইতিহাসে প্রথমবার একসঙ্গে তিনটি ম্যাসকট তৈরি করা হয়। কম্পিউটার গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তৈরি এই কাল্পনিক এলিয়েন চরিত্রগুলোর নাম ছিল ‘আটো, কান ও নিক’।
২০০৬ সালে জার্মানি আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করে। এবার সিংহের আদলে তৈরি হল ‘গোলিও সিক্স’। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ম্যাসকট ছিল ‘জাকুমি’। আফ্রিকান লেপার্ডের আদলে তৈরি এই জাকুমি শব্দের অর্থ সুন্দর।
২০১৪ সালে ব্রাজিলের বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী আর্মাডিলোর রূপ নিয়ে এল ‘ফুলেকো’। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের ম্যাসকট বেছে নেওয়া হয়েছিল জনগণের ভোটের মাধ্যমে। সেটি ছিল পাহাড়ি শেয়াল ‘জাবিভাকা’। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের ম্যাসকট ছিল ‘লা’ইব’। এটি একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ দক্ষ খেলোয়াড়। আরবের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা লা’ইব ফুটবলপ্রেমীদের দারুণ আনন্দ দিয়েছিল।
চলতি বিশ্বকাপে আয়োজক দেশ তিনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তাই এবারও ম্যাসকট থাকছে তিনটি। তবে এবারই প্রথম তিনটি ভিন্ন দেশের তিনটি ভিন্ন প্রাণী ম্যাসকট হয়েছে।
আমেরিকার ম্যাসকট হল ‘ক্লাচ দ্য বাল্ড ঈগল’। ফিফার মতে, ক্লাচ একজন দক্ষ মিডফিল্ডার। সে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতির ওপর নজর রাখে। ক্লাচ কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাসী।
কানাডার ম্যাসকট হল ‘ম্যাপল দ্য মুজ’। কানাডার বিখ্যাত ম্যাপল সিরাপ থেকে তার নাম রাখা হয়েছে। ম্যাপল একজন দুর্দান্ত গোলকিপার। তাকে অনেকেই আধুনিক সুইপার-কিপার ভাবছেন। সে একজন স্ট্রিট স্টাইলপ্রেমী শিল্পী। তার মধ্যে রয়েছে চমৎকার গল্প বলার ক্ষমতা।
মেক্সিকোর ম্যাসকট হল বাঘের আদলে তৈরি ‘জায়ু দ্য জাগুয়ার’। এই নামটি মেক্সিকোর আদিবাসী ভাষা থেকে এসেছে। দক্ষিণ মেক্সিকোর জঙ্গল থেকে আসা জায়ু হল ‘ঐক্য, শক্তি ও আনন্দ’-এর প্রতীক। সে একজন স্ট্রাইকার। জায়ু নিজের দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বের মানুষকে একসুতোয় বেঁধে রাখবে।
এই তিন ম্যাসকট আসলে মাঠের তিন পজিশনের ফুটবলার। ম্যাপল গোল সামলায়। জায়ু গোল করে। আর ক্লাচ মাঝমাঠ গুছিয়ে রাখে। ফিফার মতে, এই তিন ম্যাসকট একসঙ্গে একতা, বৈচিত্র আর ফুটবল নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আবেগের প্রতীক। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি এই তিন ম্যাসকট এখন বিশ্ববাসীকে সম্প্রীতির বার্তাও দিচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ