Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’টি শব্দের অজুহাতে খড়্গহস্ত কেন্দ্র , বাংলার গ্রামোন্নয়নে ৩৪৮৩ কোটির বিশ্বব্যাঙ্ক ঋণ থমকে

দু’টি শব্দের অজুহাতে খড়্গহস্ত কেন্দ্র , বাংলার গ্রামোন্নয়নে ৩৪৮৩ কোটির বিশ্বব্যাঙ্ক ঋণ থমকে
  • ৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধুমাত্র দু’টি শব্দ কারণ হতে পারে বঞ্চনার! নরেন্দ্র মোদি জমানায় অন্তত বাংলার জন্য এটাই সত্যি। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সশক্তিকরণের লক্ষ্যে ‘ইনস্টিটিউশনাল স্ট্রেনদেনিং অব গ্রাম পঞ্চায়েতস’ বা আইএসজিপি প্রকল্প। তার তৃতীয় পর্যায়ের কাজের জন্য বাংলাকে সহজ শর্তে ঋণ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাঙ্ক। প্রথম দু’টি পর্যায়ে সাফল্য যাচাই করেই ফের সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে তারা। তবে একেবারে ‘রাজনৈতিক’ কারণেই ৪০০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার এই প্রকল্পে ছাড়পত্র না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের ৬০ শতাংশ টাকা দেবে বিশ্বব্যাঙ্ক, আর বাকি টাকা রাজ্য সরকার। নয়াদিল্লির ভূমিকা শুধু একটি ‘ছাড়পত্র’। কী অজুহাতে সেটি আটকে, ফাইল ফেরত পাঠিয়েছে ভারত সরকার? সূত্রের খবর, ২০১৮ সালে চালু হওয়া মোদির রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান (আরজিএসএ) প্রকল্পের কার্যকারিতার বিবরণীর সঙ্গে রাজ্যের প্রস্তাবিত প্রকল্পের পাঠানো বিবরণীতে মাত্র দু’টি শব্দের মিল পাওয়া গিয়েছে—‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’। উন্নয়নমূলক কাজ আরও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ এবং উন্নত প্রযুক্তির দ্বারা পঞ্চায়েতের সব

Advertisement

স্তরকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলতেই এই ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের’ কথা রাখা হয়েছিল আইএসজিপি-৩’এর প্রকল্প বিবরণীতে। আর তাতেই আপত্তি কেন্দ্রের। এই দু’টি শব্দ বাদ না দিলে বাংলা বিশ্বব্যাঙ্কের থেকে ঋণ নেওয়ার অনুমতি পাবে না। 
রাজ্যকে এই উত্তরটুকু পাঠাতেই এক বছরের বেশি সময় নিয়েছে মোদি সরকার। ফলে শব্দ বাদ দিয়ে পঞ্চায়েত দপ্তর ফের প্রস্তাব পাঠালে, তার উত্তর কবে আসবে, সে বিষয়েও আশঙ্কায় রয়েছে রাজ্য। পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলছিলেন, ‘আমরা প্রথম দু’টি পর্যায়ে ভালো কাজ করেছি বলেই বিশ্বব্যাঙ্ক তৃতীয় পর্যায়ের জন্য ঋণ দিতে রাজি হয়েছে। ভালো কাজ না হলে ওরা লোন দেয় না। সব কিছুই ঠিক ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সামান্য ছাড়পত্রটুকু দিল না। অদ্ভুত ছুতো দেখিয়ে বাংলাকে ভাতে মারার নতুন কৌশল নিয়েছে ওরা। এটাও ১০০ দিনের কাজ, আবাস প্রকল্পের মতো রাজনৈতিক কারণ ছাড়া কিছু নয়।’
কেন্দ্রের এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবেই রাজ্য লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণে এমাসের শেষে ফের প্রস্তাব পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, আইএসজিপি-১ প্রকল্পের কাজ চলেছে ২০১০ সাল থেকে। দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ ২০১৬-১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি তৃতীয় পর্যায়ের জন্য বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেয় রাজ্য মন্ত্রিসভা। সেই বছরই ডিসেম্বর মাসে এই ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের আর্জি জানিয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেয় রাজ্য। সঙ্গে দেওয়া হয় প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণী। মাঝে কেটে গিয়েছে এক বছরের বেশি সময়। কখনও লোকসভা নির্বাচন, আবার কখনও অন্য অজুহাতে ফাইল ফেলে রাখারও অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। শেষমেশ কিছুদিন আগে রাজ্যকে ‘অবজেকশন’ জানিয়ে ফাইল ফেরত পাঠিয়েছে মোদি সরকার। 
এর মধ্যেও অবশ্য কেন্দ্রীয় নজরদারির খামতি নেই। এক দিনের ব্যবধানে রাজ্যে কেন্দ্রের দুই মন্ত্রকের সচিব হাজির হয়েছেন বাংলায়। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সচিব শৈলেশ কুমার সিং এবং পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের সচিব বিবেক ভরদ্বাজ এসে খোঁজ নিয়েছেন রাজ্যের যাবতীয় প্রকল্পের। কলকাতার আশপাশের জেলায় গিয়ে আনন্দধারা প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেছেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন সচিব। তিনি এদিন উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙায় পরিদর্শনে যান। তারপর তিনি কিছুক্ষণের জন্য নবান্নেও যান বলে জানা গিয়েছে। তবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে নারী উন্নয়নে রাজ্যের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শৈলেশ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ