নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: অশান্তির আগুন জ্বলতেই বন্ধ কোম্পানির ঝাপ। রসদে টান। দু’দিন ধরে স্রেফ আলুসেদ্ধ ভাত খেয়ে কাটানোর পর অগ্নিগর্ভ নেপাল থেকে শুক্রবার পানিট্যাঙ্কিতে ফিরলেন আলিপুরদুয়ারের শ্রমিকরা। দলে তাঁরা ১৫ জন। এপারে আসতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লেন। তবে তাঁদের আধার ও ভোটের কার্ড রেখে দিয়েছে কোম্পানি। এদিনই ‘বুদ্ধের’ দেশ থেকে ফিরে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর ও কোচবিহারের কয়েকজন শ্রমিক।
পুজোর আগে বাড়তি উপার্জনের আশায় নেপালের ধুলাবাড়ির একটি প্লাইউড কোম্পানিতে কাজে গিয়েছিলেন আলিপুরদুয়ারের শ্রমিকরা। তাঁদের মধ্যে একজন আলিমুদ্দিন শেখ। বাড়ি শামুকতলায়। তিনি বলেন, পুজোর আগে অতিরিক্ত আয়ের আশায় ধুলাবাড়ির প্লাইউড কারখানায় কাজে যোগ দিই। আচমকাই প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, আগুনে অশান্ত হয়ে ওঠে ওই দেশ। তাই দু’দিন আগে কারখানার ঝাঁপ বন্ধ করে চলে যায় মালিকপক্ষ। কোনওরকমে দু’দিন সেখানে কাটিয়ে হেঁটে, টোটোয় চেপে সীমান্তে আসি। আলিপুরদুয়ারেরই আরও এক শ্রমিক হাবিবুর রহমান বলেন, আশা নিয়ে গিয়েছিলাম। পুজোর আগে অতিরিক্ত আয় হল না। ঘরেও মজুত ছিল না রসদ। দু’দিন আলুসেদ্ধ ভাত খেয়ে কাটিয়েছি। আতঙ্কের ওই পরিবেশে আর থাকা গেল না, ফিরে এলাম।
ওই দুই শ্রমিকের মতো একই অভিজ্ঞতা শামুকতলার এক্রামূল হক, টোটন শেখ, মহম্মদ হাবিবুর রহমানের। তাঁরা বলেন, সেখানে প্রচুর শ্রমিক কাজ করেন। আমরা আলিপুরদুয়ারের ১৫ জন শ্রমিক চলে এসেছি। তবে পরিচয়পত্র তৈরির জন্য গত শুক্রবার কোম্পানির কাছে আধার ও ভোটের কার্ড দিয়েছিলাম। সেসব হাতে পাইনি। কীভাবে ওসব নথি উদ্ধার করব, বুঝতে পারছি না। তবে মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে পাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রমশ্রী প্রকল্পে আবেদন করব।
হিমালয়ের কোলে অবস্থিত নেপালের পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি শর্মার সরকারের পতনের পর দেশের দায়িত্ব সেনা বাহিনীর হাতে। বুদ্ধের দেশ এখন থমথমে। জায়গায় জায়গায় চলছে কার্ফু। এই অবস্থায় নেপালের ঝাঁপা জেলা থেকে কোনওরকমে পানিট্যাঙ্কিতে এসেছেন দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা ফিলিপ লেপচা। বলেন, রাস্তায় সেনা ও পুলিস রয়েছে। এই অবস্থায় কিছুটা হেঁটে, কিছুটা বাসে করে পানিট্যাঙ্কিতে এসেছি।
আলিপুরদুয়ারের বাসিন্দা সমীর রায় বলেন, নির্মাণ কাজের জন্য গত শনিবার নেপালের ঝাঁপায় গিয়েছিলাম। যেখানে ছিলাম, সেই বাড়ির ছদে উঠে দেখি চারদিক জ্বলছে। টিভির সংবাদে দেখেছি অগ্নিগর্ভ অবস্থা। আশপাশের বাজার বন্ধ। কেবল এক-দু’টি সবজির দোকান খোলা। বাড়ির লোকরা দুশ্চিন্তা করছিলেন। তাই কাজ ছেড়ে ফিরে এলাম। তুফানগঞ্জের নির্মাণ শ্রমিক কমল দাস, রবীন রায়দেরও একই অবস্থা। কোচবিহারের ডেপুটি লেবার কমিশনার সুমন্ত রায় বলেন, নেপাল থেকে ফিরে বেশ কয়েকজন শ্রমশ্রী প্রকল্পের সুবিধা পেতে যোগাযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।