Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিএমএসের রাজ্য নেতাকে পিটিয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের পাল্টা শ্রমিক সংগঠন

বিএমএসের রাজ্য শীর্ষ নেতাকে পিটিয়ে বহিষ্কৃত ও জেল থেকে জামিন পাওয়া গেরুয়া শিবিরের নেতারা পূর্ব মেদিনীপুরে পাল্টা শ্রমিক সংগঠন চালু করলেন।

বিএমএসের রাজ্য নেতাকে পিটিয়ে বহিষ্কৃত নেতাদের পাল্টা শ্রমিক সংগঠন
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বিএমএসের রাজ্য শীর্ষ নেতাকে পিটিয়ে বহিষ্কৃত ও জেল থেকে জামিন পাওয়া গেরুয়া শিবিরের নেতারা পূর্ব মেদিনীপুরে পাল্টা শ্রমিক সংগঠন চালু করলেন। বুধবার তমলুক শহরে একটি গেস্টহাউসে মিটিং করে ৫৪ জনের ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিল (বিজেএমটিইউসি) নামে নতুন একটি সংগঠনের জেলা কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই কমিটির পদাধিকারীদের অধিকাংশ আজীবন বিএমএস থেকে বহিষ্কৃত নেতা। বিজেপির অনুমোদনে ওই শ্রমিক সংগঠন চালু হয়েছে বলে নতুন সংগঠনের জেলা সভাপতি মাখনলাল মাজির দাবি। তাঁর আরও দাবি, দিলীপ ঘোষ থেকে শিশির অধিকারী এই ইউনিয়নের জন্য শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রায়ই বলেন, বিজেপির কোনো শ্রমিক সংগঠন নেই। এবার বিজেএমটিইউসি’র গঠনের পর তিনি অবস্থান বদল করেন কি না, সেটাই দেখার। যদিও সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া এই সংগঠনের দাবি, তারা বিজেপির অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠন। স্বাভাবিকভাবেই আগামীদিনে সংঘ এবং বিজেপির এই দুই শ্রমিক সংগঠন বিবদমান হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন কারখানা এবং ইউনিটে দু’টি সংগঠন ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। বিশ্বকর্মা পুজোর পরই নতুন সংগঠন হলদিয়া সহ বিভিন্ন জায়গায় ইউনিট অফিস চালু করবে বলে ঘোষণা করা করেছে।

Advertisement

গত ২ আগস্ট কোলাঘাট টাউনশিপ এলাকায় বিএমএসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক  দেবাশিস ভট্টাচার্যের উপর হামলা চালায় ওই সংগঠনেরই বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। এরাজ্যে দেবাশিসবাবুই সংঘের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা। অথচ, কোলাঘাটে তাঁর জামা ছিঁড়ে ফেলা হয়। বেদম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। টানাহেঁচড়া করে একটি গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা হয়। সেই ঘটনায় বিএমএসের জেলা সহ সভাপতি চন্দন প্রামাণিক সহ আটজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁরা ১৪ দিন জেল খাটার পর জামিন পান। ওই ঘটনায় ৩১ জনের নামে এফআইআর হয়। ১৪ জনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে জেলা সহ সভাপতি চন্দন প্রামাণিক, আরও এক জেলা সহ সভাপতি মাখনলাল মাজি, জেলা সদস্য মৃত্যুঞ্জয় ঘড়া প্রমুখ ছিলেন।
বহিষ্কৃত এবং জেলা খাটা এই নেতারাই জোট বেঁধে নতুন সংগঠন গড়েছেন। ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের জেলা সভাপতি হয়েছেন মাখনলালবাবু। সম্পাদক হয়েছেন চন্দন প্রামাণিক। কার্যকরী সভাপতি হয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় ঘড়া। তাঁরা প্রত্যেকেই সংঘের শ্রমিক সংগঠনের রাজ্যের শীর্ষ নেতা দেবাশিসবাবুর উপর হামলায় অভিযুক্ত এবং বিএমএস থেকে বহিষ্কৃত।
হলদিয়া থেকে কোলাঘাট বিভিন্ন কারখানায় ইউনিট খোলা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিএমএসের পাল্টা সংগঠন হিসেবে বিজেএমটিইউসি সর্বত্র ইউনিট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরফলে দুই সংগঠনের মধ্যে রেষারেষি বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মাখনলাল মাজি বলেন, ‘বিশ্বকর্মা পুজোর পরই আমরা হলদিয়ার একচেটিয়া কারখানায় ইউনিয়ন চালু করব। অধিকাংশ শ্রমিক আমাদের ছত্রছায়ায় এসে গিয়েছেন। বিজেপির অনুমোদন নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আমাদের সংগঠনের পথচলা শুরু হল।’
বিএমএসের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সম্পাদক শুভম বেরা বলেন, ‘বিজেপির কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নেই। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি জায়গায় একথা জোর দিয়ে বলছেন। কুকীর্তির কারণে আমরা বিএমএস থেকে বেশ কয়েকজনকে আজীবন বহিষ্কার করেছি। তাঁরা খড়কুটোর মতো কিছু একটা ধরে ভেসে থাকতে চাইছেন। তাই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি। বিজেপি দল এধরনের সংগঠনের অনুমোদন করে না।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ