Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘আমি যখন বাঁচবই না, মেয়েকে রেখে কী করব’! ট্রাক্টরের নীচে মরণঝাঁপ শ্রমিকের, মৃত্যু

স্ত্রী বহুদিন আগে মারা গিয়েছেন। নিজেও অসুস্থ। এর জেরে হাতে কাজ ছিল না পরিযায়ী শ্রমিকের। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে। এরকম একাধিক কারণে বিপর্যস্ত হয়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ট্রাক্টরের চাকার তলায় ঝাঁপ দেন ওই শ্রমিক।

‘আমি যখন বাঁচবই না, মেয়েকে রেখে কী করব’! ট্রাক্টরের নীচে মরণঝাঁপ শ্রমিকের, মৃত্যু
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: স্ত্রী বহুদিন আগে মারা গিয়েছেন। নিজেও অসুস্থ। এর জেরে হাতে কাজ ছিল না পরিযায়ী শ্রমিকের। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন মানসিক অবসাদে। এরকম একাধিক কারণে বিপর্যস্ত হয়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে ট্রাক্টরের চাকার তলায় ঝাঁপ দেন ওই শ্রমিক। স্থানীয়রা মেয়েকে সরিয়ে নিলেও গুরুতর জখম হন ওই শ্রমিক। জখম অবস্থাতেও তিনি মেয়েকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করেন। যদিও পাড়া প্রতিবেশীর জন্য তাতে সফল হননি। পরে গুরুতর জখম শ্রমিককে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাটের ভাটপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাঙ্গি এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম মুন্না রায় (৩০)। শনিবার ওই যুবকের দেহ ময়নাতদন্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

কিন্তু কেন মেয়েকে মারার চেষ্টা? কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিস। পরিবার সূত্রে খবর, শ্রমিকের চার বছরের কন্যা সন্তান রয়েছে। স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে তিন বছর আগে অসুস্থ হয়ে স্ত্রী মারা যান। মা চলে যাওয়ায় একা হয়ে পড়ে মেয়ে। বালুরঘাটে দাদার বাড়িতে নিজের মেয়েকে রেখে কাজে চলে যান মুন্না। কিন্তু দুর্ঘটনায় পা জখম হয় তাঁর। মাসখানেক আগে তিনি বালুরঘাটে ফিরে আসেন। চিকিৎসা করিয়েও তাঁর পা সারেনি। ফলে তিনি ভারী কোনও কাজ করতে পারছিলেন না। বালুরঘাটেও তেমন কাজ পাচ্ছিলেন না। সেই হতাশায় মদ্যপানে ডুবে থাকতেন। সম্প্রতি মানসিক অবসাদেও ভুগছিলেন। এরপরই তিনি এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। চার বছরের মেয়েকে আচমকা টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যা স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে মেয়েকে কেড়ে নেয়। এরপর ওই যুবক চলন্ত ট্রাক্টরের চাকার নীচে ঝাঁপ দেন। গুরুতর জখম হয়ে ওই অবস্থাতেই উঠে এসে মেয়েকে গলা টিপে মারার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা মেয়েটিকে বাঁচান। 
এবিষয়ে মৃতের দাদা নির্মল রায় বলেন, মেয়েকে কীভাবে মানুষ করবে, তা নিয়ে ভাই খুব চিন্তা করত। যদিও আমার আর এক ভাই মেয়েটিকে নিজের কাছে রাখত। তবুও মুন্না মানসিক অবসাদে এই কাজ করেছে। ভাইঝিকেও মারার চেষ্টা করে। জখম অবস্থাতেই বলছিল, আমি যখন আর বাঁচব না, তাহলে মেয়েকে রেখে কী করব? বালুরঘাট থানার আইসি সুমন্ত বিশ্বাস বলেন, পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ