Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণে মৃত্যু দগ্ধ শ্রমিকের, বাকি ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

শনিবার দুপুরে চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় শেষমেশ মৃত্যু হল এক শ্রমিকের।

চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণে মৃত্যু দগ্ধ শ্রমিকের, বাকি ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বারুইপুর: শনিবার দুপুরে চম্পাহাটির হাড়ালে বাজি বিস্ফোরণের ঘটনায় শেষমেশ মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। নাম গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় (৬০)। কলকাতার এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি বাজি কারখানার আরও তিন শ্রমিক। তাঁরা হলেন কিষাণ অধিকারী, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও রাহুল পুই। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ শতাংশ বার্ন ইনজুরি নিয়ে কিষাণ অধিকারী বাঙ্গুর হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি দু’জনকে ভর্তি করা হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রাহুলের শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। বারুইপুর থানার পুলিশ বাজি কারখানার মালিক বিধান নস্করের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। তিনি পলাতক। পুলিশ রবিবার ওই এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করেছে। কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, তা নিয়ে রবিবার দিনভর চর্চা হয়েছে হাড়ালে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, বাজির মশলার সঙ্গে সম্ভবত কোনও রাসায়নিক সামগ্রীর মিশ্রণের ফলেই বিস্ফোরণ হয়েছে। ওই কারখানায় চতুর্দিকে প্রচুর বাজি ও বাজি তৈরির মশলা থাকায় বিস্ফোরণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। বারুইপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হাড়ালে তল্লাশি ও পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে বলে বারুইপুর পুলিশ জেলা সূত্রে খবর।

Advertisement

শনিবার হাড়ালে বাজি ব্যবসায়ী বিধান নস্করের কারখানায় দুপুরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। রবিবার সকাল থেকে হাড়াল এলাকা ছিল শুনশান। বাজির সব দোকানই ছিল বন্ধ। অন্যান্য বাজি ব্যবসায়ীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। পুলিশ বিস্ফোরণের ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে। বিস্ফোরণের পর বাজি ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে বলেন, এরপর কীভাবে ব্যবসা চলবে, জানি না। যারা বেআইনিভাবে বাজি তৈরি করে, তাঁদের জন্য অন্য ব্যবসায়ীদের বদনাম হচ্ছে।
মৃত গৌরহরি গঙ্গোপাধ্যায় বেগমপুরের নড়িদানার বাসিন্দা। তাঁর এক আত্মীয় বলেন, কোনও সতর্কতা ছাড়াই বাজি তৈরি করা হচ্ছিল। জখম গৌরহরিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় হাড়ালের বাজি সংগঠনের কেউ সাহায্য করেননি। আমরাই খবর পেয়ে এসে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছি। অন্যদিকে, পিয়ালির খোলাঘাটার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি রাহুল পুইয়ের ঠাকুমা বলেন, কয়েকদিন হল রোজগারের আশায় এই কাজে ঢুকেছিল। এভাবে দুর্ঘটনা ঘটবে, বুঝতে পারিনি। রাহুলের বাবা-মা নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পিয়ালির বহু কিশোর হাড়ালের বাজি কারখানায় কাজের জন্য যায়। সংসারের টানাটানির কারণেই বাধ্য হয় তারা এই কাজ করতে।
এদিন, প্রদেশ কংগ্রেসের এক প্রতিনিধি দল যায় হাড়ালে। প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রশাসন বিষয়টি আড়াল করছে। মৃতের ও আহতদের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে স্থায়ী চাকরির দাবি জানিয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ