নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হাওড়ার ইস্ট-ওয়েস্ট বাইপাসের কাছে চ্যাটার্জিপাড়া রেল ব্রিজের উপর ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আলি হোসেন (৩৯)। বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। ট্রেনে কাটা পড়ার পর তাঁর দেহাংশ ছড়িয়ে পড়ে ব্রিজের নীচের রাস্তায়। যা দেখে আতঙ্কে শিউরে ওঠেন পথচারীরা। অভিযোগ, দেহ উদ্ধার নিয়ে জিআরপি’র দুই শাখার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েন চলে। ফলে ভোর পর্যন্ত ওই দেহাংশ রাস্তাতেই পড়েছিল। পরে শালিমার জিআরপি এসে দেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
জানা গিয়েছে, মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা আলি হোসেন আগে ভিন রাজ্যে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। মাসকয়েক আগে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। তারপর কিছুদিন ধরে হাওড়ার আমতায় কাজ করছিলেন। সম্প্রতি পরিবারের কাছ থেকে রাজ্য সরকারের ‘শ্রমশ্রী’ প্রকল্পের কথা জানতে পারেন তিনি। সেই প্রকল্পে আবেদন করার জন্যই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পুলিস জানিয়েছে, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি রেললাইন ধরে হেঁটে হাওড়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। দাশনগর ও টিকিয়াপাড়া স্টেশনের মাঝে চ্যাটার্জিপাড়া রেলব্রিজের উপর উঠতেই তাঁর সামনে একটি মালগাড়ি চলে আসে। ঝাঁপ দেওয়ার আগেই কাটা পড়েন তিনি। ঘটনার বীভৎসতায় পরিযায়ী শ্রমিকের মাথা ও অন্যান্য দেহাংশ খণ্ড খণ্ড হয়ে নীচের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ে। তা দেখে পথচারী ও বাইক আরোহীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরপর ব্যাঁটরা থানার পুলিস এসে জায়গাটি গার্ডওয়াল দিয়ে ঘিরে দেয়। পুলিস জানিয়েছে, ওই জায়গা রেল পুলিসের আওতাধীন হওয়ায় তারা দেহ উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে ভোররাত পর্যন্ত রাস্তাতেই পড়ে ছিল শ্রমিকের দেহাংশ।
এদিকে, দেহ উদ্ধার করবে কে, তা নিয়ে হাওড়া জিআরপি ও শালিমার জিআরপির মধ্যে দীর্ঘক্ষণ টানাপোড়েন চলে। শেষে ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ শালিমার জিআরপি এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রেল পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রেললাইনে কাটা পড়ার মতো ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের গার্ডকে পরবর্তী স্টেশনে গিয়ে ঘটনার বিবরণ বা মেমো দিতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে টিকিয়াপাড়া বা দাশনগর স্টেশনে কোনও মেমো জমা পড়েনি। শালিমার জিআরপির এক আধিকারিক বলেন, ‘মৃতের আই কার্ড দেখে পরিচয় জানা যায়। ইতিমধ্যেই পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এলে তাঁদের হাতে দেহ তুলে দেওয়া হবে। তবে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।’