সংবাদদাতা, কান্দি: বছরভর অপেক্ষার পর অবশেষে খড়গ্রাম ব্লকে দ্বারকা নদের ভাঙা বাঁধ মেরামত শুরু হল। যদিও তাতে বন্যার আতঙ্ক এলাকার মানুষের পিছু ছাড়ছে না। গতবছর বন্যায় ওই নদের চার জায়গায় বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। কিন্তু এবার শুধুমাত্র দু’জায়গায় ভাঙা বাঁধ মেরামত করা হবে। তাতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে একরাশ দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
গতবছর বন্যায় ওই নদের ডান তীরে চার জায়গায় বাঁধ ভেঙে গিয়েছিল। তার মধ্যে পদমকান্দি গ্রামের কাছে প্রায় ২২মিটার এলাকাজুড়ে বাঁধ ভেঙে যায়। খোসাঘাট এলাকায় প্রায় ১৫ মিটার বাঁধ ভেঙে যায়। কুরবাননগর ও নিমাইখালি গ্রামের কাছে পাঁচ মিটার করে বাঁধ ভাঙে।
সেবার বন্যায় পদমকান্দি পঞ্চায়েতে বিস্তীর্ণ জমির ফসল নষ্ট হয়। আমন ধান ও তুঁতগাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল বলে চাষিরা জানিয়েছেন। তারপর থেকে স্থানীয়রা ভাঙা বাঁধ মেরামতের জন্য বারবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফেও বাঁধ মেরামতের জন্য প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেচদপ্তরের আধিকারিকরা বাঁধের ভাঙা অংশ পরিদর্শন করেন।
সম্প্রতি পদমকান্দিতে ভাঙা বাঁধ মেরামত শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে বৃহস্পতিবার সেই কাজ বন্ধ থাকে। বাসিন্দারা জানান, বাঁধের ২২মিটার ভাঙা অংশে কাজ শুরু হয়েছে। তবে শুধুমাত্র বস্তায় মাটি ভরে মজুত করা হয়েছে। এখনও বাঁধে মাটি পড়েনি। এর মধ্যেই নদে জল চলে আসায় বাকি কাজ ফের কবে শুরু হবে-তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।
সেচদপ্তরের কান্দি মহকুমার এক আধিকারিক বলেন, জেলাশাসকের নির্দেশে আপাতত ২২ মিটার ভাঙা বাঁধ মেরামত শুরু হয়েছে। এরপর আরও একটি বাঁধের কাজ হবে। বৃষ্টি কমলেই বাঁধ মেরামত শুরু হবে।
বাঁধের কাজ শুরু হলেও এবছরও বন্যার আতঙ্ক স্থানীয়দের তাড়া করছে। পদমকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজ মহম্মদ বলেন, বাঁধের কাজ খুব দেরিতে শুরু হল। নদীতে জলও চলে এসেছে। তাই বাকি কাজ শেষ হবে কিনা বলা মুশকিল। গতবছরের মতো বানভাসি হতে হবে না তো-আমরা সেই আশঙ্কায় রয়েছি।
পঞ্চায়েত প্রধান সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ভাঙা বাঁধের বড় দু’টি জায়গায় মেরামত শুরু হয়েছে। তবে যে দু’জায়গায় পাঁচ মিটার করে বাঁধ ভাঙা রয়েছে, সেখানে এখনই মেরামত হবে না বলে জানা গিয়েছে। তাতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আমরা চার জায়গাতেই ভাঙা বাঁধ মেরামতের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।