Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ চলছে জোরকদমে, প্রসেসিং ইউনিট বসানোর তোড়জোড় শুরু

১৫০ বছরের পুরনো পুরসভা বিষ্ণুপুরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ছিল না। দশকের পর দশক ধরে যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের শেষ ছিল না।

ডাম্পিং গ্রাউন্ডের কাজ চলছে জোরকদমে, প্রসেসিং ইউনিট বসানোর তোড়জোড় শুরু
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ১৫০ বছরের পুরনো পুরসভা বিষ্ণুপুরে ডাম্পিং গ্রাউন্ড ছিল না। দশকের পর দশক ধরে যত্রতত্র ময়লা ফেলা নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের শেষ ছিল না। এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহর লাগোয়া ময়রাপুকুর মৌজায় পাঁচ একর জায়গায় প্রায় ১কোটি টাকা খরচে ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণের পাঁচিল আগেই তৈরি হয়েছে। এবার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের শেড নির্মাণ শুরু হয়েছে। তা সম্পূর্ণ হলেই মেশিন বসানো হবে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

Advertisement

বিষ্ণুপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গৌতম গৌস্বামী বলেন, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটতে চলেছে। রাজ্য নগরোন্নয়ন দপ্তর থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, পুজোর আগেই তা চালু করা হবে। ইতিমধ্যে আমরা নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে এসেছি। দ্রুত গতিতে শেড তৈরির কাজ চলছে। 
পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর শহরে চার বছর আগে গ্রিন সিটি প্রকল্প চালু হয়েছে। তাতে বাড়ি বাড়ি বর্জ‌্য সংগ্রহের কাজ শুরু চলছে। কিন্তু, ওই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের সমস্যা রয়েই যায়। মূলত ডাম্পিং গ্রাউন্ডের অভাবে গোটা প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছিল না। শহর থেকে সংগৃহীত বর্জ্য কখনও লালবাঁধের পূর্ব প্রান্তে, কখনও বাইপাস এলাকায়, কখনও জঙ্গলের ফাঁকা জমিতে একপ্রকার লুকিয়ে চুরিয়ে ফেলতে বাধ্য হচ্ছে পুরসভা কর্তৃপক্ষ। গ্রিন সিটি প্রকল্প চালু হওয়ার আগে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকরা বিষ্ণুপুরে এসে একাধিকবার বৈঠকে বসেন। বর্জ্য সংগ্রহের কাজে কোনও সমস্যা না হলেও পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ বর্জ্য নিষ্কাশন নিয়ে সমস্যা দেখা যায়। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সমস্যার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কানেও তোলা হয়। তিনি দ্রুত জায়গার ব্যবস্থা করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। সেই মতো প্রশাসন ও ভূমিদপ্তর শহরের অদূরে ময়রাপুকুর মৌজায় পাঁচ একর খাস জমির সন্ধান পায়। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানেই ডাম্পিং গ্রাউন্ড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় এক কোটি টাকা খরচে উঁচু পাঁচিল নির্মাণ করা হয়। এবার প্রসেসিং ইউনিট বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুরসভার আধিকারিকরা বলেন, আমরা প্রচলিত অর্থে যাকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড বলি তাতে দূষণ ছড়ায়। বর্জ্য এক জায়গায় জমা করা হয়। দিনের পর দিন ধরে তা জমে স্তূপাকৃতি হয়ে দূষণ সৃষ্টি হয়। তাতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। কিন্তু, গ্রিন সিটি প্রকল্পের অধীন ডাম্পিং গ্রাউন্ড ঠিক সেই রকম নয়। উঁচু পাঁচিল ঘেরা জায়গায় বর্জ্য রাখা হবে। কিছুদিনের মধ্যেই তা প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। জৈব বর্জ্যকে সারে পরিণত করা হবে। কঠিন বর্জ্যকে পৃথক করে তা বিভিন্ন কারখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, এটা কোনও ‘নির্জন’ ডাম্পিং গ্রাউন্ড হবে না। কিছু লোকের কর্মসংস্থানও হবে। ডাম্পিং গ্রাউন্ড নাম শুনলেই এতদিন সাধারণ মানুষ দূষণের ভয় পেতেন। এখনকার আধুনিক ডাম্পিং গ্রাউন্ড কার্যত একটি শিল্প।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ