Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু, খরচ ৬৬ কোটি

জমা জলের যন্ত্রণার মতোই পানিহাটির বাসিন্দাদের আরেক জ্বলন্ত সমস্যা পানীয় জলের সংকট

পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু, খরচ ৬৬ কোটি
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: জমা জলের যন্ত্রণার মতোই পানিহাটির বাসিন্দাদের আরেক জ্বলন্ত সমস্যা পানীয় জলের সংকট। শুধু গ্রীষ্মে নয়, ভরা বর্ষা বা শীতের মরশুমেও পর্যাপ্ত পানীয় জল মেলে না পুরসভার বিভিন্ন অংশে। পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ-অবরোধ হয় মাঝেমধ্যেই। এবার সেই সমস্যার সমাধান হতে চলেছে। চলতি সপ্তাহে পানিহাটিতে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী বছরেই পানিহাটির পানীয় জল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। 

Advertisement

শহরের বহু জায়গায় সরু সুতোর মতো জল পড়ে। কোথাও সেটুকুও আসে না নিয়মিত। কোথাও কোথাও যে জল সরবরাহ হয়, তা পানের অযোগ্য বলে অভিযোগ করেন বাসিন্দারা। আধঘন্টার মধ্যে জল এসে চলে যায়—এমন এলাকাও রয়েছে। পুরসভার ২৬ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও ১৬, ১৭, ১৮, ২০, ২২, ২৫, ৩১, ৩২ সহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে পানীয় জলের সমস্যা বেশি। শহরবাসীর একটা বড় অংশ বাধ্য হয়ে কেনা জলের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সমস্যার মূল কারণ গত দু’দশকে পানিহাটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানীয় জলের পরিকাঠামো তৈরি করা হয়নি।   
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের মোট ৩৫টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১৯ এমজিডি (মিলিয়ন গ্যালন পার ডে) জল প্রয়োজন। পুরসভার নিজস্ব ১৩ এমজিডির  জলপ্রকল্প রয়েছে। তবে ওই প্রকল্প থেকে এখন প্রতিদিন গড়ে ৯ মিলিয়ন গ্যালন জল আসে। আড়িয়াদহের বহু প্রাচীন জলপ্রকল্প থেকে বরানগর ও পানিহাটি পুরসভায় জল আসত। এক্ষেত্রে পানিহাটিতে ছয় এমজিডি জল আসার কথা থাকলেও বাস্তবে আসে এক থেকে দুই এমজিডি। এছাড়াও পুরসভার নিজস্ব গভীর নলকূপ থেকে এক এমজিডি জল তোলা হয়। সব মিলিয়ে প্রতিদিন সাত থেকে আট মিলিয়ন গ্যালন জলের ঘাটতি থেকে যাচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত বছর গরমের সময় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নগরোন্নয়ন দপ্তরের অর্থে প্রায় ৬০টি গভীর নলকূপ বসানো হয়। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটছে না। তাই পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ নতুন জলপ্রকল্পের জন্য তদ্বির করছিলেন। সেই মতো চলতি সপ্তাহে ঠাকুর কর্নার মাঠে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ শুরু হয়েছে। পুরসভার জল সরবরাহ দপ্তরের সিআইসি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘৬৬ কোটি টাকা খরচে ১০ এমজিডির নতুন একটি জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়াও ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গঙ্গা থেকে জল আনার পাইপলাইনের ৮০ ভাগ কাজ হয়ে গিয়েছে। নীলগঞ্জ রোড সহ যেসব রাস্তার নীচ দিয়ে পাইপলাইন গিয়েছে, সেই রাস্তাগুলি নতুন করে তৈরির জন্য পাঁচ কোটি টাকার টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। প্রকল্প চালু হয়ে গেলে পানিহাটির পানীয় জল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ