নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার কর্মরত অবস্থায় ডাকঘরের মধ্যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন এন্টালি পোস্ট অফিসের এক সিনিয়র ডাক কর্মী। হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। তিনি বর্তমানে সুস্থ। ওই ব্যক্তি সুইসাইট নোটে লিখেছিলেন, ‘কাজের চাপের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছিলেন না বলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।’
দপ্তরে তাঁর সহকর্মীরা এই ঘটনায় মর্মাহত। তাঁরা বলেন, প্রত্যেককেই যথেষ্ট চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। অনেকের কাছেই এই চাপ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না গড়ে কাজের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের উপর। এই অভিযোগ সামনে এনে ডাক বিভাগের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেলকে চিঠি লিখল ‘অল ইন্ডিয়া পোস্টাল এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন পোস্টমেন অ্যান্ড এমটিএস’। সংগঠনের বক্তব্য, ‘ওই কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে দপ্তরের বাস্তব পরিস্থিতি।’
সংগঠনের পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের সেক্রেটারি সুভাষ চক্রবর্তী জানান, ইনডিপেন্ডেন্ট ডেলিভারি সেন্টার নামে একটি প্রকল্প চালু হয়েছে সম্প্রতি। সেখানে কর্মীদের কী কঠিন পরিস্থিতি ও চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে, তা সুইসাইড নোটে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মী। প্রথমত সেখানে স্থান সঙ্কুলান হয় না। বসার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়ে গেলেও কোনও পরিকাঠামো দেওয়া হয়নি। এই সেন্টারগুলিতে বহু ক্ষেত্রেই অনেক দেরিতে পণ্য এসে পৌঁছচ্ছে বিভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে। অথচ সব ডেলিভারির কাজ ওই দিনই শেষ করতে হয় কর্মীদের। এ কাজ এককথায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। যে পদ্ধতিতে নিজেদের স্মার্ট ফোনে ডেলিভারি সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে হচ্ছে, তা বয়স্ক কর্মীদের অনেকেই করে উঠতে পারছেন না। ফলে তাঁরা ভয়ঙ্কর সঙ্কটে পড়ছেন। আত্মহত্যার চেষ্টা করা কর্মীও সুইসাইট নোটে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছে। সুভাষবাবু বলেন, ‘আমরা আগেও এই সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমাদের দাবি, এবার অন্তত তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এবং মানবিকভাবে দেখুন।’