নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গত বছর বন্যায় ভেঙে যাওয়া পাঁচটি নদীবাঁধ মেরামতে সাড়ে ৯কোটি টাকা বরাদ্দ হল। ইতিমধ্যে সেচদপ্তর থেকে কাজের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করার পর মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২২জানুয়ারি সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব মণীশ জৈন পূর্ব মেদিনীপুরে এসে বিভিন্ন নদীবাঁধ পরিদর্শন করেন। ২০২৪সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁশকুড়ার চারটি এবং ময়নার একটি নদীবাঁধও ঘুরে দেখেন। বন্যায় ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ দ্রুত মেরামত করার জন্য সেচদপ্তরকে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেন। সেইমতো দপ্তর থেকে দ্রুত ডিপিআর তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়ার মানুর ও জন্দড়ায় নিউ কংসাবতী নদীবাঁধ মেরামতের জন্য সাড়ে তিন কোটি করে মোট সাত কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এছাড়া, পাঁশকুড়ার গড়পুরুষোত্তমপুরে ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ শক্তপোক্ত করার জন্য বরাদ্দ হয়েছে দেড় কোটি টাকা। উদয়পুরে নদীবাঁধ মেরামতের জন্য খরচ হবে ৫০লক্ষ টাকা। ময়না থানার নারিকেলডাহায় নিউ কংসাবতীর ভেঙে যাওয়া নদীবাঁধ মেরামতে বরাদ্দ হয়েছে ৫০লক্ষ টাকা। জানা গিয়েছে, মোট তিনটি এজেন্সি ওই পাঁচ জায়গায় নদীবাঁধ মেরামতের কাজ করছে। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে মে মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ শেষ করার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে ১৫জুন। অর্থাৎ বর্ষা শুরুর আগেই নদীবাঁধ শক্তপোক্ত করার কাজ শেষ করা হবে।
বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নদীবাঁধ মেরামত করা হলেও সেটা শক্তপোক্ত ছিল না। আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেসময় কাঠের বল্লা ও টিন দিয়ে ঘিরে বাঁধ মেরামত করা হয়েছিল। কিন্তু, বন্যা প্রতিরোধের জন্য ভেঙে যাওয়া অংশ আরও শক্তপোক্ত করা প্রয়োজন। সেই কাজ কবে হবে তা নিয়ে পাঁশকুড়াবাসী উদ্বিগ্ন ছিল। কারণ, ২০২৪সালের বন্যার ভয়াবহ রূপ দেখেছে শহর ও গ্রামীণ পাঁশকুড়ার বাসিন্দারা।
তাই ফের বর্ষায় যাতে সেরকম পরিস্থিতি না হয় তারজন্য নদীবাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত জরুরি। সেচদপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের নির্দেশের পরই দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা চটজলদি ডিপিআর তৈরি করে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করে দেন। মোট ন’কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও সেচদপ্তরের তমলুক ডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, মানুর ও জন্দড়ায় নদীবাঁধ মেরামতের জন্য সাত কোটি টাকা ধরা হলেও ঠিকাদার সংস্থা ৬০শতাংশ লেসে কাজ ধরেছে। একইভাবে গড়পুরুষোত্তমপুর, উদয়পুর এবং ময়নার নারিকেলডাহার বাকি আড়াই কোটির কাজ এজেন্সি ৩১শতাংশ লেসে করছে। তাই ওই পাঁচটি জায়গায় নদীবাঁধ মেরামতের কাজে অনেক সরকারি অর্থ উদ্বৃত্ত হবে।-নিজস্ব চিত্র