নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোথাও কাঠুরিয়া রূপে অসুর। কোথাও আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ থেকে দৈত্য বেরচ্ছে। কেউ সোনারপুরে নিয়ে আসছেন এক টুকরো প্যারিস। এমন বিভিন্ন চমক দিতে কোমর বেঁধেছে সোনারপুর ও নরেন্দ্রপুরের একাধিক নামী পুজো কমিটি। একে অপরকে টেক্কা দিতে কোনও চেষ্টাই বাদ রাখছেন না উদ্যোক্তারা। থিমের লড়াইয়ে শহরতলির পুজো কলকাতার সঙ্গে পাল্লা দিতে তাল ঠুকছে।
সোনারপুর থানা এলাকার এলাচি রামচন্দ্রপুর মিলন সঙ্ঘের পুজো ৭৭তম বর্ষে পা দিয়েছে। পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে আগামী প্রজন্মকে। থিমের নাম, ‘শ্বাস’। মণ্ডপজুড়ে পরিবেশরক্ষার বার্তা। মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে কী হতে পারে সে সব ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপে। প্রতিমা তৈরি হচ্ছে থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে। তাতেও রয়েছে চমক। কমিটির অন্যতম কর্তা সঞ্জয় সেনগুপ্ত বলেন, ‘মা দুর্গা এখানে কাঠুরিয়াকে বধ করতে দেখা যাবে। তাঁকেই অসুর হিসেবে দেখানো হবে। গাছের ছাল, ফলের খোলা, ফাইবার, কাপড়ের পাতা ব্যবহার করে সাজানো হবে মণ্ডপ। রাখা হবে নানা মডেল।’ ২৮ লক্ষ টাকা পুজোর বাজেট। তৃতীয়াতে উদ্বোধনের পরিকল্পনা।
নরেন্দ্রপুর থানার রামচন্দ্রপুর তরুণ সঙ্ঘ ৪৬তম বর্ষে পদার্পণ করল। তাদের এবারের থিম ‘বিবর্তন’। পুজো কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ‘সাত, আট বা ন’য়ের দশকে ছোটরা যে সব খেলাধুলো করত যেমন, টায়ার চালানো, গুলিখেলা সেগুলি থাকবে। তা দিয়ে শুরু করে বর্তমানে কম্পিউটার গেমসে মগ্ন নতুন প্রজন্ম, এই পরিবর্তনটাই তুলে ধরা হবে মণ্ডপে। এছাড়াও সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিবর্তনের কাহিনি থাকবে। থিমের মণ্ডপ। প্রতিমা সাবেক ঘরানার। বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হবে থিমের গল্প।’ ২৮ লক্ষ টাকা বাজেট বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
মানিকপুর পুষ্পদলের পুজোর এবার ১১তম বর্ষ। আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। বাচ্চাদের মনোরঞ্জনের ভাবনা থেকে এমন থিম হচ্ছে বলে জানান পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অনুপকুমার মিশ্র। মণ্ডপ একটি গুহার আদলে তৈরি করা হচ্ছে। ভিতরে থাকবে নানা ধরনের মডেল। আলাদিন, আশ্চর্য প্রদীপ প্রভৃতি। প্রদীপের মুখ থেকে ধোঁয়া বেরবে। দৈত্য বেরনোর ব্যবস্থাও থাকবে। সবটা দেখে বাচ্চারা উপভোগ করবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। ১০ লক্ষ টাকা বাজেটে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ।
এক টুকরো প্যারিস দেখা যাবে সোনারপুরের কোদালিয়ায়। এখানকার দাসপাড়ার মিতালি সঙ্ঘের পুজোর এবার ১৫তম বর্ষ। এবছর চমক প্যারিসের অপেরা হাউস। ৬৫ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ। ভিতরে ১৯ ফুট লম্বা দুর্গাপ্রতিমা। পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা দীপক দাস বলেন, ‘অনেক মানুষের বিদেশে যাওয়ার উপায় নেই। তাই পুজো মণ্ডপ যদি কোনও দর্শনীয় স্থানের আদলে তৈরি করা যায়, তাহলে সেই মানুষগুলি দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে পারবেন। এই ভাবনা থেকেই এবার প্যারিসের অপেরা হাউস করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের পুজোয় ৩৫ লক্ষ টাকার বাজেট ধরা হয়েছে। বাড়তি চমক হিসেবে মণ্ডপের ভিতর হাজার আলোর ঝাড়বাতি লাগানো হবে। রাস্তার আলোকসজ্জার জন্য চন্দননগর থেকে আনা হবে আলো।’