সংবাদদাতা, বোলপুর: পুরুষদের শৌচাগার ব্যবহার করছেন মহিলারা। আসলে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। কারণ, তাঁদের জন্য যে শৌচাগার বরাদ্দ রয়েছে, সেগুলি দিনের পর দিন তালা বন্ধ। শৌচাগারের কল, মগ প্রভৃতি চুরি যাওয়ার কারণে ঐতিহ্যবাহী বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবন অঙ্গনের অ্যান্থ্রোপলজি বিভাগের কর্মীরা এই ‘সিদ্ধান্ত’ নিয়েছেন। আর তাতেই শৌচাগার ব্যবহার করতে পারছেন না ছাত্রী-অধ্যাপিকারা। সম্প্রতি, ওই বিভাগ একটি বক্তৃতার আয়োজন করেছিল। সেখানে বহিরাগত দুই মহিলা গবেষক বাথরুম ব্যবহার করতে চাইলে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক রঙ্গিয়া গাছুঁই বাধ্য হয়ে তাঁদের ‘স্টাফ বাথরুম’ ব্যবহার করতে বলেন। আর তাতে বিভাগেরই দুই কর্মী ওই অধ্যাপিকার সঙ্গে অভব্য আচরণের পাশাপাশি গালিগালাজ ও মানসিক হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ। চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা, তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের উচ্চপদস্থ অধ্যাপিকার সঙ্গে এই আচরণ করায় ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়েছে অ্যান্থ্রোপলজি বিভাগে। এই ঘটনায় ওই দুই কর্মীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে ইতিমধ্যেই ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতকে অভিযোগ জানিয়েছেন ওই অধ্যাপিকা। পদক্ষেপ না নিলে এসটি সেল, ইউজিসি সহ অন্যান্য নারী সুরক্ষা বিভাগেও অভিযোগ জানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। নারী দিবসের তিনদিন আগে কবিগুরুর ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মহিলা হেনস্তার ঘটনাটি ঘটে। অ্যান্থ্রোপলজি বিভাগের ছাত্রীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন বাথরুমগুলি তালাবন্ধ অবস্থায় থাকে। ফলে, ছাত্রী ও অধ্যাপিকাদের অমানুষিক পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অথচ, দেশের যে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানীয় জল, পরিচ্ছন্ন শৌচাগার পড়ুয়া, অধ্যাপক, অধ্যাপিকাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। খোদ কবিগুরুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মহিলারা। কর্মীদের এই অমানবিক আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছাত্রী-অধ্যাপিকারা। তাঁদের অভিযোগ, এর আগেও ওই দুই কর্মী একাধিকবার অধ্যাপিকা ও ছাত্রীদের মানসিক হেনস্তা ও গালিগালাজ করেছেন। অভিযুক্তদের একজন শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে তার এত বাড়বাড়ন্ত, এমনটাই তাঁদের দাবি। ঘটনা প্রসঙ্গে কর্মসচিবকে রঙ্গিয়াদেবী অভিযোগপত্রে লেখেন, ‘গত ৬ মার্চ অ্যান্থ্রোপলজি বিভাগে একটি বক্তৃতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দুই মহিলা গবেষক বাথরুম ব্যবহারের অনুরোধ করেন। আমি তাঁদের বিদ্যাভবন কনফারেন্স রুমের পাশে অবস্থিত শৌচাগার ব্যবহার করতে বলি। আর তাতেই বিভাগের দুই কর্মী আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। বিষয়টি, ভবনের অধ্যক্ষকে জানাতে গেলে পুনরায় আমাকে গালিগালাজ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের। পরিচ্ছন্ন শৌচাগার পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের মৌলিক অধিকার। এছাড়া, যেহেতু আমি উত্তর-পূর্ব রাজ্য, তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলা। তাই বিদ্যাভবনের কর্মীদের দ্বারা মৌখিক নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার হয়েছি। শুধু আমি না, বিভাগের ছাত্রী এবং মহিলা গবেষকরাও শৌচাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়েন। কারণ, বেশিরভাগ শৌচাগারই তালাবন্ধ থাকে। কর্মক্ষেত্রে যা বৈষম্যের শামিল। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ না করা হলে আমি এসটি সেল, ইউজিসি, জাতীয় মহিলা কমিশন ও উপজাতি বিষয়ক মন্ত্রালয়ে বিষয়টি তুলে ধরতে বাধ্য হব। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বিদ্যাভবনের অ্যান্থ্রোপলজি বিভাগে শোরগোল পড়েছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাত বলেন, তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।



