Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভয় পেয়েই বাঁকুড়ায় মহিলাদের নাম বাদ! তৃণমূলের অভিযোগ ঘিরে সরগরম জেলা

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি। তাই বাঁকুড়ায় বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দিয়েছে বলে তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে ভয় পেয়েই বাঁকুড়ায় মহিলাদের নাম বাদ! তৃণমূলের অভিযোগ ঘিরে সরগরম জেলা
  • ৬ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্যে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বিজেপি। তাই বাঁকুড়ায় বেছে বেছে মহিলাদের নাম বাদ দিয়েছে বলে তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে। এসআইআরের দ্বিতীয় দফায় জেলায় মোট ৪০১৭ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তারমধ্যে ২১০৯ জন মহিলা। সিংহভাগ মহিলা ভোটার বাদ পড়ায় ঘাসফুল শিবির বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাদ পড়া ভোটারদের অনেকে বাঁকুড়া জেলা কালেক্টরেট চত্বরে জড়ো হন। বাঁকুড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলারদের নেতৃত্বে তাঁরা জেলাশাসকের অফিসে যান। জেলা নির্বাচন দপ্তরে গিয়ে তাঁরা ৬ নম্বর ফর্ম জমা দেন। নতুন করে ভোটাধিকার পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে বাদ পড়া বৈধ ভোটাররা জানিয়েছেন।  

Advertisement

বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার ওই প্রকল্পে অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে। তারফলে মহিলারা তৃণমূলকে আশীর্বাদ করেছেন। তাতেই বিজেপি ভয় পেয়েছে। সেই কারণে জেলায় বেশি মহিলা ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে বিজেপি এসব করছে। আমরা বিষয়টি জেলাবাসীর সামনে তুলে ধরব। বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলায় মোট মহিলা ভোটারের তুলনায় বাদ পড়ার সংখ্যা নগণ্য। কমিশন নিজের মতো কাজ করছে। রাজ্যের মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের থেকেও নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে বেশি চিন্তিত। নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবে মহিলারা এমনিতেই তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। 
বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়া জেলার ১২টি বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত ২১০৯ জন মহিলার নাম বাদ গিয়েছে। শালতোড়া বিধানসভায় ৩১২ জন, ছাতনায় ২১৬ জন, রানিবাঁধে ১১৩ জন, রাইপুরে ১১২ জন, তালডাংরায় ২১৬ জন, বাঁকুড়ায় ২৫১ জন, বড়জোড়ায় ৩৩৫ জন, ওন্দায় ১০০ জন, বিষ্ণুপুরে ৪০ জন, কোতুলপুরে ২২ জন, ইন্দাসে ১৪২ ও সোনামুখীতে ২৫০ জন মহিলার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মহিলার নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে তৃণমূলের দখলে থাকা অথবা শাসক দলের সংগঠন ভালো এমন বিধানসভাগুলিকে বিজেপি টার্গেট করেছে বলে ঘাসফুল শিবিরের দাবি। যদিও বিজেপি ওই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। 
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা ইন্দ্রাণী সিংহরায়, সুচেতা দে বলেন, পরিবারের অন্যান্যদের নাম তালিকায় উঠলেও আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা ২০০২ সালের এসআইআর পরবর্তী ভোটার তালিকার সঙ্গে নিজেদের সংযোগ প্রমাণ করেছি। মহিলাদের নাম বেশি করে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে আমাদেরও মনে হয়েছে। 
বাঁকুড়া শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব দে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিলিক দত্ত এদিন জেলাশাসকের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, এলাকার বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নিয়ে আমরা প্রয়োজনে কলকাতার ধরনা মঞ্চেও যাব। আপাতত ফর্ম-৬ জমা করা হচ্ছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেই যাতে বৈধ ভোটাররা তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নির্বাচন কমিশনকে নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমরা আন্দোলনে নামব।  বাঁকুড়া শহরে বাদ পড়া ভোটাররা ৬ নম্বর ফর্ম জমা দিতে জেলাশাসকের দপ্তরে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ