সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: সংসারের হাল ধরতে সাইকেল মেরামতের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বংশীহারি ব্রজবল্লবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্জলি বর্মন। কুসুম্বা স্ট্যান্ডের কাছে তাঁর সাইকেল মেরামতের দোকান। ছয় বছর ধরে পাংচার সারান, সাইকেল মেরামত করেন। শুধুই কি পাংচার সারাই, টায়ার, টিউব পাল্টানো সমস্ত কাজই করেন পুরুষ মানুষের মতো।
বর্তমান যুগে মেয়েরা বাস, লরি, প্লেন, অটো, টোটো- সবই চালাচ্ছেন। নিজের কাজ নিয়ে তাই কোনও লজ্জা নেই অঞ্জলি দেবীর। বাড়ির কাজ সামলে নিজের ছোট্ট দোকানে এসে অন্যের সাইকেল সারান। অঞ্জলি জানান, জেলা প্রশাসন সরকারিভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে সাইকেল রিপেয়ারিং সেন্টার করে জেলার মহিলাদের কাজ শেখাতে প্রস্তুত তিনি। গ্রামীণ এলাকা সহ শহরেও সাইকেলের এখন ভালোই চাহিদা। সাইকেল মেরামত ও সারাইয়ের কাজ তেমন শক্তির কাজ নয়, প্রশিক্ষণ নিলে অনায়াসে এই কাজ শেখা যায়।
তবে অনেক কাজ থাকতে হঠাত্ একাজে আগ্রহ কীভাবে? অঞ্জলি বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে আমি বাড়ির কাজ সামলে স্বামীর সঙ্গে আমাদের ছোট্ট সাইকেলের দোকানে বসতাম। দেখতে দেখতে সবটা শিখেছি। মাঝে মধ্যে স্বামীকে কাজে সাহায্য করেছি। স্বামী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাহস করে সেই দোকানটাই আমি চালানোর সিদ্ধান্ত নিই। তারপর আর ভাবেননি অঞ্জলি। মেরামত থেকে সারাই সমস্তটাই নিজে হাতে করেন চল্লিশোর্ধ্ব অঞ্জলি।
তিনি জানান, বাড়িতে স্বামী সহ ছেলেরা রয়েছেন। তাঁরা বাড়ির অন্যান্য কাজ করেন। অঞ্জলি নিয়মিত দোকানে কাজ করেন। অঞ্জলির সাফ কথা, কোনও কাজই ছোট নয়। আমি হাতের কাজ করে রোজগার করছি। মহিলারা অনায়াসে এই পেশায় আসতে পারেন, এতে কোনও লজ্জা নেই। এখন রাজ্য সরকার পড়ুয়াদের সাইকেল দিচ্ছে। স্বনির্ভর দলের মহিলারা এই কাজ শিখে ভালো রোজগার করতে পারেন, বলছেন অঞ্জলি। সংসারের হাল ধরতে অঞ্জলির ব্যতিক্রমী পেশাকে বেছে নেওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছেন গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসক অভিষেক শুক্লা। তিনি বলেন, উৎকর্ষ বাংলায় হাতের কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মহিলারা সাইকেল মেরামতে আগ্রহ দেখালে আমরা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করব। একই বক্তব্য জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি অম্বরিশ সরকারেরও। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে অঞ্জলির কাজকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।