নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে শনিবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও আরামবাগে দিনভর নানা অনুষ্ঠান হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত নারীদের সংবর্ধনাও দেওয়া হয়। এদিন বিকেলে আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা মহিলা তৃণমূলের উদ্যোগে গোঘাটের শ্রীপুর মাঠ থেকে কামারপুকুর চটি পর্যন্ত র্যালি হয়। তাতে অংশ নেন সংগঠনের জেলা সভানেত্রী করবী মান্না সহ অন্যান্যরা। করবীদেবী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মেয়েদের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প দিয়ে সম্মানিত করেছেন। তিনি মহিলাদের আত্মমর্যাদা দিয়েছেন। মহিলাদের জন্য তাঁর মতো করে কেউ ভাবেননি। তাই মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে এদিন আমরা মিছিল করে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়েছে।
এদিন পুলিসের উদ্যোগেও বিভিন্ন থানায় কর্মসূচি নেওয়া হয়। খানাকুলের তাঁতিশালের বাসিন্দা কঙ্কাবতী মালিক বিশেষভাবে সক্ষম। ৮০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। এলএলবি পাশ করে তিনি এখন আইনেই মাস্টার ডিগ্রি পড়ছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে খানাকুলের বীরলোকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেয় পুলিস। উপস্থিত ছিলেন আরামবাগের এসডিপিও সুপ্রভাত চক্রবর্তী, ওসি মুন্সী হামিদুল রহমান প্রমুখ। সেখানে পুলিসের উদ্যোগে মহিলাদের নিয়ে একটি সেলফ ডিফেন্স প্রদর্শনীও হয়।
অন্যদিকে, এদিন বিকেলে বাঁকুড়া শহরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে মহিলা তৃণমূলের তরফে মিছিল করা হয়। মাচানতলা মোড় থেকে সারদামণি কলেজ পর্যন্ত ওই মিছিল হয়। মিছিলে অংশ নেন পুরসভার চেয়ারম্যান অলোকা সেন মজুমদার, মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত সহ অন্যান্যরা। মহিলা তৃণমূল সহ অন্যান্য সংগঠনের তরফেও জেলাজুড়ে দিনটি পালিত হয়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে পুরুলিয়ার মানবাজার ১ ব্লক অফিসের উদ্যোগে এক মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে স্কুল পড়ুয়া থেকে মহিলারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু। এদিন মানবাজার শহরে মিছিলটি পরিক্রমা করে। এছাড়াও তিনজন কলেজ উত্তীর্ণ শবর মহিলাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মানবাজার-২ ব্লক অফিস চত্বরেও নারী দিবস পালন করা হয়। জয়পুর ব্লক প্রশাসনের তরফে একটি মিছিল হয়। তারপর ব্লক অফিসে একটি আলোচনা সভা হয়। উপস্থিত ছিলেন বিডিও সৌম্য শাসমল। পুরুলিয়া-২ ব্লকের ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।