Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সংসারের মায়া কাটিয়ে মা কালীর পুজো মহিলার, মন্দির কাকদ্বীপে

এক সংসার ত্যাগী মহিলার কালীপুজো ঘিরে কাকদ্বীপে গড়ে উঠেছে স্থায়ী মন্দির

সংসারের মায়া কাটিয়ে মা কালীর  পুজো মহিলার, মন্দির কাকদ্বীপে
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: এক সংসার ত্যাগী মহিলার কালীপুজো ঘিরে কাকদ্বীপে গড়ে উঠেছে স্থায়ী মন্দির। এখন সেই মন্দিরেই পুজো করে স্বামী বিবেকানন্দ গ্রাম পঞ্চায়েতের আশুবাবুর চক এলাকার বাসিন্দারা। পুজোর দিন কয়েক হাজার ভক্ত ডালা দেন। জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০ বছর আগে ওই এলাকার শ্মশানের পাশে থাকতেন শিবানী মাইতি সংসার ধর্ম ত্যাগ করে কালীপুজো শুরু করেন। তিনি শ্মশানের পাশে খালের ধারে পলিথিন টাঙিয়ে প্রতিমা রেখেছিলেন। দু’বছর ওই ছোট ঘরে তিনি পুজো করেন। এরপর গ্রামবাসীরা উদ্যোগ নিয়ে শ্মশানের পাশে একটি ছোট ঘর বানিয়ে দেন। সেই ঘরে প্রতিমা প্রতিষ্ঠা হয়। কিন্তু শিবানীদেবী সেই ঘরে গিয়ে পুজো করতে রাজি হননি। তিনি প্রতিমা ছেড়ে দিয়ে চলে যান। নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তখন গ্রামবাসীরা ঘরে রাখা কালীর পুজো করার উদ্যোগ নেন। সেই থেকে আশুবাবুর চকে শুরু হয় শ্মশান কালী পুজো।

Advertisement

প্রথমে ট্রিপল টাঙিয়ে শ্মশানের পাশে একটি ছোট মন্দির বানানো হয়েছিল। সেই মন্দিরে কালীর প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রায় দশবছর পর গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় এক কামরার ঘর হয়। সেখানেই স্থায়ী কংক্রিটের মন্দির গড়ে উঠেছে। পাথরের তৈরি কালীপ্রতিমা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মন্দির পরিচালন কমিটির প্রধান সদস্য খোকন মিদ্যা বলেন, ‘এই গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, দেবী খুব জাগ্রত। মন্দির তৈরির সময় কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। রাজমিস্ত্রি গভীর রাতে শ্মশানের উপর দিয়ে প্রায়শই একটি ছোট মেয়েকে হেঁটে যেতে দেখতেন। এছাড়াও গভীর রাতে বহুবার গ্রামবাসীরা শ্মশানের ভিতরে নূপুরের শব্দ শুনেছেন। এই এলাকার বাসিন্দারা বিশ্বাস করেন, মন্দিরে মানত করলে তা পূরণ হয়। বর্তমানে বহু দূর থেকে ভক্তরা এসে এখানে মানত করেন ও পুজো দেন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ