সংবাদদাতা, বারুইপুর: তাঁদের কারও বয়স ৬৫ বছর। কেউ আবার ২৫। এঁরা সবাই মল্লিকপুর উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের প্রমীলা বাহিনী। এই বাহিনী দুর্গাপুজো করে। এখন মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক অনুদান তাঁদের বড় ভরসা। অতসী, লক্ষ্মী, মনীষা, দীপা, সুতপা, সুদীপ্তা, রূপা, মৌস্মিতা, তানিয়া, শর্মিষ্ঠা অর্পিতা, অনুশ্রী , নন্দিনী, ময়ূশ্রী, দীপমালারা সবাই গৃহবধূ। ঘরের হেঁসেল সামলে ওঁরা নেমে পড়েন পুজোর আয়োজন করতে।
বারুইপুরের মল্লিকপুর কাজীপাড়া মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা। এখানেই প্রমীলা বাহিনীর পুজো হয়। ক্রমে তা জমজমাট হয়ে উঠেছে। প্রতিমা আনা থেকে শুরু করে বিসর্জন দেওয়া সবই নিপুণ হাতে সামলায় নারী ব্রিগেড। পুজোর কর্ত্রী অতসী ভট্টাচার্য ও লক্ষ্মী রায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান না পেলে আমরা পুজো করতেই পারতাম না। পাড়া ঘুরে চাঁদা সংগ্রহ নয়। অনুদানের কিছু টাকা পুজোতে ব্যয় করে পরের বছরের জন্য রেখে দেওয়া হয়। এই এলাকাতে আমরা মিলেমিশে পুজো করি।’ এই পুজোর আয়োজকদের মধ্যে আছে শাশুড়ি-বৌমা। মা-মেয়ে। প্রমীলা বাহিনীর পুজো এবার ৪১ বছরে পা দিয়েছে। বাহিনীর সদস্যা সুদীপ্তা রায় বলেন, ‘পুজোর কয়েকদিন আমাদের মণ্ডপেই কেটে যায়। বাড়ির ছেলেরাও এগিয়ে আসে সাহায্য করতে। কয়েকদিন জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নবমীতে মল্লিকপুর বাজারে ভোগ বিতরণ করি।’ সদস্যা রূপা দে, অর্পিতা চৌধুরী, তানিয়া ঘোষাল বলেন, ‘আমাদের প্রমীলা বাহিনীর পুজো দেখতে বাইরের মানুষজন ভিড় করে আসেন। মায়ের সাবেকি মূর্তি।’ ফাইল চিত্র