সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাংলা নববর্ষ পড়তেই গ্রাম ছাড়তে হয় সন্তান সম্ভবা মহিলাদের। তাঁরা গ্রামে থাকলেই নাকি রুষ্ট হন ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যাদেবী। এমনকী, স্বামী-স্ত্রীও এক বিছানায় ঘুমোতে পারবেন না ওই দিন থেকে। কৃষক জমিতে লাঙল দিয়ে চাষ করতে পারবেন না। প্রখর রৌদেও কোনও ছাতা ব্যবহার করতে পাবরেন না গ্রামের বাসিন্দারা। শুধু কি তাই, তীব্র গরমেও খালি পায়েই চলাফেরা করতে হয় গ্রামে। এমনই সব আজব নিয়ম আজও মেনে চলে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামের বাসিন্দারা। বৈশাখের নববর্ষের দিন থেকে সেই নিয়ম মেনে চলা হয়। সারাবছরেই বিশেষ নিয়ম আছে দেবীর। তবে এই বিশেষ কিছু নিয়ম মানা হয় বৈশাখের সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত। কারণ ওইদিন মা যোগাদ্যার মহাপুজো। তাই মা ক্ষুন্ন হবেন, এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন গ্রামের বাসিন্দারা। পরম্পরা রীতি মেনেই এখানে অনেক পুরনো রেওয়াজ চালু আছে। কেন এমন আজব নিয়ম প্রচলিত আছে, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই দেবীর পূজারীদের কাছেও। ব্যাখা শুধু একটাই, মা যোগাদ্যাকে সন্মান জানাতেই তাঁর পুজোর নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয়। পূর্বপুরুষের কাছ থেকে যা জেনেই এই নিয়ম মেনে চলা হয়। যোগাদ্যা পুজো কমিটির সম্পাদক বরুণ চক্রবর্তী বলেন, বৈশাখ মাসে দেবীর মহাপুজো। তাই এই মাসজুড়ে নানা নিয়ম আমরা তা পালন করি।



