Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষ থেকে মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে থাকেন না ‘সন্তানসম্ভবা’ মহিলারা

নববর্ষ থেকে মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে থাকেন না ‘সন্তানসম্ভবা’ মহিলারা
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বাংলা নববর্ষ পড়তেই গ্রাম ছাড়তে হয় সন্তান সম্ভবা মহিলাদের। তাঁরা গ্রামে থাকলেই নাকি রুষ্ট হন ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যাদেবী। এমনকী, স্বামী-স্ত্রীও এক বিছানায় ঘুমোতে পারবেন না ওই দিন থেকে। কৃষক জমিতে লাঙল দিয়ে চাষ করতে পারবেন না। প্রখর রৌদেও কোনও ছাতা ব্যবহার করতে পাবরেন না গ্রামের বাসিন্দারা। শুধু কি তাই, তীব্র গরমেও খালি পায়েই চলাফেরা করতে হয় গ্রামে। এমনই সব আজব নিয়ম আজও মেনে চলে পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামের বাসিন্দারা। বৈশাখের নববর্ষের দিন থেকে সেই নিয়ম মেনে চলা হয়। সারাবছরেই বিশেষ নিয়ম আছে দেবীর। তবে এই বিশেষ কিছু নিয়ম মানা হয় বৈশাখের সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত। কারণ ওইদিন মা যোগাদ্যার মহাপুজো। তাই মা ক্ষুন্ন হবেন, এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন গ্রামের বাসিন্দারা। পরম্পরা রীতি মেনেই এখানে অনেক পুরনো রেওয়াজ চালু আছে। কেন এমন আজব নিয়ম প্রচলিত আছে, তার কোনও ব্যাখ্যা নেই দেবীর পূজারীদের কাছেও। ব্যাখা শুধু একটাই, মা যোগাদ্যাকে সন্মান জানাতেই তাঁর পুজোর নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা হয়। পূর্বপুরুষের কাছ থেকে যা জেনেই এই নিয়ম মেনে চলা হয়।  যোগাদ্যা পুজো কমিটির সম্পাদক বরুণ চক্রবর্তী বলেন, বৈশাখ মাসে দেবীর মহাপুজো। তাই এই মাসজুড়ে নানা নিয়ম আমরা তা পালন করি। 

Advertisement

ক্ষীরগ্রামে সতীদেহের ডান পায়ের আঙ্গুল পড়েছিল বলেই কথিত আছে। তাই এটিও একটি সতীপীঠ। যোগাদ্যাদেবীর প্রস্তর মূর্তি সারা বছর জলে রাখা থাকে। তবে সারাবছর যোগাদ্যা মাকে মন্দিরের পাশেই ক্ষীরদিঘিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। বৈশাখের সংক্রান্তিতে যোগাদ্যা মাকে জল থেকে তোলা হয়। প্রতীকী নররক্তের পুজো দেওয়া হয়। মূল মন্দিরে রেখে চলে পুজো। প্রথা মেনে গ্রামের এক পরিবারের সদস্যরা আজও দেবীর উদ্দেশে শরীর থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেন। তারপর শুরু হয় মহাপুজোর আয়োজন। তারপর আবার ওইদিন রাতেই মাকে জলে দিয়ে দেওয়া হয়। বৈশাখ মাসজুড়ে রৌদ্রেও কেউই কোনও ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ দেবীকে এইভাবেই সন্মান জানাতে হয়। এটাই নাকি দেবীর বিধান। 
তবে, মাসের শেষে মায়ের কাছে বিশেষ ‘লাঙল’ অনুষ্ঠানের পর জমিতে হাল দিতে পারবেন কৃষকরা। বাংলার ১৩৬৯ বঙ্গাব্দে বর্ধমানের রাজ পরিবার থেকে দেবী যোগাদ্যার পুজোর ভার যায় গ্রামের ট্রাস্টের হাতে। ২৭ বৈশাখ ‘মহীরাবণ বধ’ হয়। তাই ওইদিন মায়ের রত্নবেদীতে খাঁড়া রাখতে হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ