সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: নববর্ষের আগে দোকানে দোকানে পরিবারের সদস্য, সন্তানদের জন্য জামাকাপড় কেনার হিড়িক। চৈত্র সেলের বাজারও বেশ জমে উঠেছে। আর এই কেনাকাটায় অনেকেরই ভরসা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা। ব্যাংক থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলে দোকানে দোকানে নতুন পোশাক কেনার হিড়িক বাড়ছে মহিলাদের। কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদ ব্লকের বিভিন্ন বাজারে সপরিবার নতুন পোশাক কিনতে আসছেন মহিলারা।
রবিবার ছুটির দিনে কালিয়াগঞ্জ শহরের একটি কাপড়ের দোকানে এসেছেন রাধিকাপুরের ঝর্ণা বর্মন। সঙ্গে সাতবছরের পুত্র। বাজার করতে এসে ছেলের জন্য জামা,প্যান্ট ও নিজের জন্য দুটি শাড়ি কিনলেন ঝর্ণা। হাসিমুখে বললেন, ব্যাংক থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো চার হাজার টাকা তুলেছিলাম। তা দিয়েই বাজার করলাম। কাকরশিংয়ের বধূ মেনকা রায় হেমতাবাদ সদর এলাকার বাজারে এসেছিলেন। ব্যাংক থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জমানো বারোশো টাকা তুলে তিনি বাজারে এসেছেন। বাজারে ঢোকার আগে জানালেন, মেয়েকে নিয়ে এসেছি, চৈত্র সেলের বাজারে। নতুন শাড়ি, জুতো কিনব।
কয়েকদিন ধরে কাপড় কিনতে হাটে-বাজারে মহিলাদের ভিড়। কাপড় ব্যবসায়ী পরেশ চক্রবর্তীর বক্তব্য, চৈত্র সেলের বাজারে মহিলারাই বেশি আসছেন। নিজেরাই পছন্দমতো কেনাকাটা করছেন। মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, ব্যাংক থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তুলেই সোজা বাজারে চলে আসছেন কেনাকাটা করতে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিমাসে মহিলাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হাজার টাকা ঢোকে। এসসি, এসটি মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১২০০ টাকা ঢোকে। সেই টাকা কয়েকমাস পর পর তুলে নানা কাজে খরচ করছেন মহিলারা। এতে যেমন মহিলারা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি পরিবারের নানা কাজে তা খরচ করতে পারছেন।
কালিয়াগঞ্জের বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নিতাই বৈশ্য বলেন, মহিলাদের আত্মমর্যাদা বৃদ্ধি করতেই এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেওয়া হচ্ছে। এই টাকা দিয়ে মহিলারা প্রয়োজনে নিজের শখ পূরণ করছেন। পরিবারকেও সাহায্য করতে পারছেন। চৈত্র সেলে কেনাকাটায় মহিলাদের ভিড়।