শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: এসআইআর নিয়ে প্রতিবাদের সুর বনগাঁর সভামঞ্চ থেকেই বেঁধে দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর হাঁটতে হাঁটতে বাড়াতে থাকলেন ঝাঁঝ। বাংলার অগ্নিকন্যার সঙ্গে পা মেলাতে মেলাতে মতুয়া সম্প্রদায়ের অসংখ্য মানুষ গলা মেলালেন প্রতিবাদের সুরে। মঙ্গলবার মতুয়াগড় ঠাকুরনগর ততক্ষণে কার্যত জনসমুদ্র।
কেউ বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে কেউ রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবাদে সামিল। দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেন সবাই। সকলেরই বক্তব্য, ‘বাংলার ভরসা মমতা।’ কাউকে বলতে শোনা গেল, ‘এই লড়াইকে স্যালুট।’ মিছিল লক্ষ্য করে উড়ে এল ফুল। কেউ মিষ্টি উপহার দিতে এগিয়ে এলেন। ফুল-মিষ্টি-আবেগ-ভালোবাসা তৈরি করল প্রতিবাদের নয়া ভাষ্য। তা ক্রমে আরও জোরালো হবে বলে অঙ্গীকার করলেন সবাই। পদযাত্রা শেষে স্থানীয় নেতৃত্বকে এসআইআর নিয়ে পথে থাকার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মিছিলে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। সকলে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে একপলক দেখার জন্য। সে মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে দেখা গিয়েছে অবিরত।
মঙ্গলবার ঘড়ির কাঁটায় তখন সাড়ে তিনটে। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় এসে দাঁড়ায় চাঁদপাড়ার ঠাকুরনগর স্টেশন রোডের কাছে। রাস্তার দু’পাশে যেদিকে চোখ যায় শুধুই কালো মাথা। কারও হাতে মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের কাজের খতিয়ান লেখা ব্যানার। কারও হাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা লেখা। কনভয় থেকে নেমেই মমতা শুরু করেন পদযাত্রা। মিছিলে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর প্রমুখ। প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা। মিছিল এগনোর সঙ্গে বাড়ে মানুষের ভিড়। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে শ্লোগানের তীব্রতা। হাঁটতে হাঁটতে মানুষের দিকে হাতজোড় করে অনবরত অভিবাদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মিছিলের পাশে দড়ি ধরে দাঁড়িয়ে ষাটোর্ধ্ব প্রমীলা সাহা। বলেন, ‘সকালে খাওয়াদাওয়া সেরেই চলে এসেছি ওঁকে একটিবার দেখব বলে। এসআইআর নিয়ে উনি যেভাবে আমাদের জন্য লড়াই করছেন তা দেখেই সঙ্গে আছি বলতে আসা।’ গৃহবধূ সোনালি দাস পাশে দাঁড়িয়ে। বলেন, ‘এসআইআরে মতুয়াদেরই সবথেকে বেশি ভয়। মুখ্যমন্ত্রী বনগাঁর সভায় কী ভাষণ দিয়েছেন তা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুনেছি। আমাদের মনে হচ্ছে উনিই আমাদের একমাত্র সহায়। উনি যা বলেন সেটাই করেন। আমরাও চিৎকার করে দিদিকে বলেছি লড়াইয়ে তোমার সঙ্গেই আছি।’ সন্তান কোলে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিল দেখছিলেন এক গৃহবধূ। মুখ্যমন্ত্রী খুদেকে কোলে নিয়ে আদর করলেন।
অনেকের বক্তব্য, এসআইআর বিরোধী প্রতিবাদ মিছিল থেকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঝাঁকুনি দিয়ে গেলেন মমতা। যার তীব্রতা সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে। ঝড় উঠবে রাজ্যজুড়ে। এদিন এটাও বোঝা গিয়েছে, মতুয়াগড় আর বিজেপির সঙ্গে নেই। মিছিলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে সে বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। মিছিল শেষ করে যশোর রোড ধরে কলকাতায় আসার পথ ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। অশোকনগরের তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী তাঁকে রাস্তায় স্বাগত জানান। নিজস্ব চিত্র