নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ট্রেনে উঠে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে মারধর ও লুটের পর ফের হাওড়া স্টেশনের বাইরে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বুধবার রাতে হাওড়া স্টেশনের সামনে সাবওয়েতে এক মহিলার গলা থেকে সোনার হার ছিনতাই করে পালাল দুষ্কৃতীরা। গোলাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মিঠু ঘোষ। স্টেশনের বাইরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখেও বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত দুষ্কৃতীদের ধরতে পারেনি পুলিশ। হাওড়া স্টেশনের বাইরে নেশাখোর, ছিনতাইবাজদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন নিত্যযাত্রীরা। টিকিয়াপাড়া এলাকা থেকে আসা ছিনতাইবাজদের একটি গ্যাং সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে দাবি পুলিশের একাংশের।
হাওড়ার বড়গাছিয়ার বাসিন্দা মিঠু ঘোষ বুধবার স্বামীর সঙ্গে বিশেষ কাজে শ্যামবাজার গিয়েছিলেন। রাতে বাড়ি ফেরার সময় হাওড়া স্টেশনের ১২ নম্বর সাবওয়েতে একটি দোকানে যান তিনি। তখনই এক যুবক তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায়। অভিযোগ, সে মিঠুদেবীর গলা থেকে সোনার হার টান মেরে ছিনিয়ে নিয়ে দৌঁড় দেয়। খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্বামী বৃন্দাবন ঘোষ। মিঠুদেবী চিৎকার শুরু করতেই তিনি দুষ্কৃতীর পিছু নেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই ওই দুষ্কৃতী ভিড়ে মিলিয়ে যায়। বৃন্দাবনবাবু বলেন, ‘ সাবওয়েতে খুব বেশি ভিড় ছিল না। তবে দুষ্কৃতী একা আসেনি। সম্ভবত আরও দু’জন ওর সঙ্গে ছিল। সে চম্পট দিতেই বাকিরাও তার পিছু নেয়।’ মিঠুদেবী জানান, তাঁর গলার সোনার হারটির ওজন প্রায় দশ গ্রাম। ঘটনার পরই দম্পতি গোলাবাড়ি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও অভিযুক্তরা অধরা। প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর রাতে হাওড়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা রাঁচিগামী ট্রেনে উঠে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে তাঁর সোনার ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয় একদল দুষ্কৃতী।
হাওড়া স্টেশনের বাইরে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য নিয়ে যাত্রী মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। সাবওয়েতে বসে থাকা বিক্রেতাদের অনেকেই বলেন, ‘পুলিশের নজরদারির অভাবে সন্ধের পরেই পাতাখোরদের আনাগোনা বাড়ছে। একজন নয়, রীতিমতো দল বেঁধে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটাচ্ছে। কাউকে টার্গেট করলে সেই ব্যক্তির আশেপাশে ভিড়ে মিশে যায় এরা। সুযোগ বুঝে কেউ একজন কাছে গিয়ে কাজ হাসিল করছে।’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, টিকিয়াপাড়া এলাকা থেকে আসা ছিনতাইবাজদের বেশ কয়েকটি দল সন্ধের পরই হাওড়া স্টেশন, হাওড়া ও দীঘা বাসস্ট্যান্ডের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছে। এদের অধিকাংশই কিশোর। অসীম সেন, শর্মিতা মালাকার, নাসিম শেখের মতো যাত্রীদের অনেকেই বলেন, ‘অফিস থেকে ফেরার সময় হাওড়া স্টেশনের সামনে বাস থেকে নেমে প্ল্যাটফর্ম পর্যন্ত নিরাপদে যাওয়াই এখন দুষ্কর। খুব সাবধানে ব্যাগ আগলে হাঁটতে হয়। সাবওয়ে একেবারেই নিরাপদ নয়।’