নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রেল লাইন লাগোয়া জায়গা কোন পুলিসের আওতায়? তানিয়ে জিআরপির সঙ্গে বেলঘরিয়া থানার দীর্ঘক্ষণ দড়ি টানাটানি চলে। যার জেরে বিবস্ত্র মহিলার দেহ রেল লাইনের ধারের খালে পড়ে রইল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। শেষপর্যন্ত বেলঘরিয়া থানা মহিলার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃত মহিলার পায়ে গামছা বাঁধা ছিল। গায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের অনুমান, আশপাশের এলাকায় নির্যাতন করে খুনের পর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পুলিস মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামারহাটি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বাসুদেবপুর এলাকা রেল লাইন লাগোয়া। পাশেই টেক্সম্যাকো কারখানা। রেল লাইনের পাশের খাল নোংরা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে মৃতদেহ উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। মাথা ও দু’হাত জলের মধ্যে, দেহের বাকি অংশ পাড়ের দিকে রয়েছে। একটি পা মোড়া অবস্থায় জঞ্জালের মধ্যে ঢুকে ছিল। আর একটি পা সোজা। তাতে গামছা বাঁধা। দেহে অন্তর্বাস ছাড়া কিছুই ছিল না। দেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত বেলঘরিয়া থানায় খবর দেন। এরপর খবর পৌঁছয় দমদম জিআরপির কাছে। দ্রুত দুই থানার পুলিস এবং স্থানীয় ২৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নির্মলা রাই পৌঁছে যান। তারপরই শুরু হয় জায়গা নিয়ে দড়ি টানাটানি। কে উদ্ধার করবে দেহ তা নিয়ে দুই পক্ষে টানাপোড়েন শুরু হয়। সকলের চোখের সামনে বিবস্ত্র দেহ ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকে। কিন্তু দেহটি উপুর হয়ে পড়ে থাকায় বোঝা যাচ্ছিল না, সেটি পুরুষ না মহিলার। এরপর সাড়ে তিনটে নাগাদ দেহ উদ্ধার করে বেলঘরিয়া থানার পুলিস। তখনই স্পষ্ট হয় এটি মহিলার মৃতদেহ। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলার নির্মলা রাই বলেন, আমি খবর পেয়ে সকাল ১১টায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। প্রথমে সকলে ভেবেছিল পুরুষের মৃতদেহ। কিন্তু সাড়ে তিনটের পর মৃতদেহ তুলতে বোঝা যায় মহিলার দেহ। মৃতদেহ উদ্ধারে এত সময় কেন লাগল প্রশ্নে বলেন, ওটা প্রশাসনিক বিষয়। পুলিস বলতে পারবে। নিজস্ব চিত্র



