Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ চেয়ে নিজেকে ঘরবন্দি রাখা মহিলাকে উদ্ধার

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা এক মহিলাকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল পুলিশ। মঙ্গলবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ায় আলোড়ন ছড়ায়।

‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ চেয়ে নিজেকে ঘরবন্দি রাখা মহিলাকে উদ্ধার
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’ চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখা এক মহিলাকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল পুলিশ। মঙ্গলবার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ায় আলোড়ন ছড়ায়। দিনের পর দিন খাওয়াদাওয়া বন্ধ রেখে দরজা আটকে ঘরের ভিতর পড়ে থাকায় শান্তা হোম (৪৮) নামে ওই অবিবাহিত মহিলার চেহারা কঙ্কালসার হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার ও বাসিন্দাদের সহযোগিতায় নিঃসঙ্গ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এদিন চিকিৎসার জন্য জলপাইগুড়ি মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। কেন তিনি স্বেচ্ছামৃত্যু চেয়ে নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলেন, এদিন তা নিয়ে পুলিশের প্রশ্নের উত্তরে খোলসা করে কিছু বলেননি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ওই মহিলা। শুধু বলেছেন, আমার বাবা-মা নেই। কেউ নেই। আমি বাঁচতে চাই না। তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটিও খতিয়ে দেখছেন চিকিৎসকরা।

Advertisement

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, ওই মহিলার বাবা প্রমোদচন্দ্র হোম বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। মা লক্ষ্মী হোমের মৃত্যু হয় ২০১৪ সালে। তাঁর আর কোনো ভাই-বোন নেই। দু-একজন আত্মীয় থাকলেও তাঁরা খোঁজখবর রাখেন না। বাড়িতে একাই থাকতেন তিনি। প্রাইভেট টিউশন পড়িয়ে নিজের খরচ জোগাড় করতেন। কোনোদিন নিজে বাড়িতে রান্না করতেন। কখনো গৌড়ীয় মঠ থেকে ভোগ নিয়ে এসে খেতেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে তিনি বাড়ির বাইরে বেরনো বন্ধ করে দেন। ফলে তিনি কী খেতেন, সারাক্ষণ ঘরের মধ্যে কী করতেন তা নিয়ে তাঁদের মনে দানা বাঁধে সন্দেহ। এদিন সকালে তাঁরা দল বেঁধে মহিলার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। খবর দেন স্থানীয় কাউন্সিলার পৌষালি দাসকে। তিনিও এসে ভিতর থেকে বন্ধ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শান্তাকে ডাকেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়াশব্দ না মিললেও একসময় ঘরের ভিতর থেকে উত্তর আসে, ‘আমি স্বেচ্ছামৃত্যু চাই। কেউ আমাকে বিরক্ত করলে আত্মহত্যা করব।’
মহিলার এই হুমকিতে ভয় পেয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা। তড়িঘড়ি পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ওই মহিলাকে ঘর থেকে বের করার অনেক চেষ্টা করে। প্রথমে জানালা ভেঙে মহিলার সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দরজা আটকে ঘরে পড়ে থাকায় হাড় জিরজিরে চেহারা হয়েছে ওই মহিলার। তবুও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটুট। অবশেষে পুলিশ ও কাউন্সিলারের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন প্রতিবেশীরা। শান্তা নামের ওই মহিলাকে উদ্ধারের পর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জলপাইগুড়ির ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার পৌষালি দাস বলেন, পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ