Bartaman Logo
১৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঘাসফুলের বোতাম টিপলেও ভোট পড়ছে পদ্মে! খয়রাশোলে ধুন্ধুমার

ঘাসফুলের বোতাম টিপলে ভোট পড়ছে পদ্মশিবিরে। এমনই অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার বাঁধল দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামে।

ঘাসফুলের বোতাম টিপলেও ভোট পড়ছে পদ্মে! খয়রাশোলে ধুন্ধুমার
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পিনাকী ধোলে, সিউড়ি: ঘাসফুলের বোতাম টিপলে ভোট পড়ছে পদ্মশিবিরে। এমনই অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার বাঁধল দুবরাজপুর বিধানসভার খয়রাশোল ব্লকের বুধপুর গ্রামে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইভিএম বিভ্রাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বুধপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৫ নম্বর বুথ চত্বর। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের খণ্ডযুদ্ধে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষ ও ইটবৃষ্টিতে বাহিনীর তিন জওয়ান এবং এক পুলিশের গাড়ির চালক সহ মোট চারজন জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিশাল পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম নামাতে হয়। ঘটনার জেরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার।

Advertisement

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বুধপুর গ্রামে ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু বেলা গড়াতেই ছন্দপতন ঘটে। অভিযোগ ওঠে, ইভিএমে তৃণমূল প্রার্থীর নির্দিষ্ট বোতামে চাপ দিলে ভোট চলে যাচ্ছে বিজেপি প্রার্থীর পক্ষে। এই খবর চাউর হতেই বুথ চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা মেশিন পরীক্ষা করতে আসার কথা ছিল। তার আগেই ততক্ষণে স্কুলের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন শয়ে শয়ে গ্রামবাসী। জমায়েত সরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সক্রিয় হতেই বিপত্তি বাধে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, কোনো প্ররোচনা ছাড়াই তাঁদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এরপরই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি শুরু হয়। লাঠিসোঁটা ও বাঁশ নিয়ে পুলিশের এক পর এক গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। ইটের আঘাতে গাড়ির কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। সেইসময় গাড়ির ভিতর ছিলেন চালক শেখ আব্দুর সালাম। তিনি বলেন, ‘আমি গাড়ির ভিতর বসেছিলাম। হঠাৎ চারপাশ থেকে পাথরবৃষ্টি শুরু হয়। বেরতে গেলে একটা বড় ইট আমার মাথায় আর পায়ে লাগে।’ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে পুলিশকে সার্ভিস রিভলভার বের করতে দেখা যায়। খবর পেয়ে বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব। তিনি বলেন, ‘একজনকে ভোট দিলে অন্য কোথাও যাচ্ছে-এই অভিযোগ ঘিরেই মূলত উত্তেজনার সূত্রপাত। সিএপিএফ জওয়ানদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। আমি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এখন এলাকা শান্ত, ভোটও চলছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করা হবে।’ জখমদের উদ্ধার করে খয়রাশোলের নাকড়াকোন্দা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক এসএস হোসেন জানান, জখম চারজনের মধ্যে একজনের আঘাত বেশ গুরুতর। প্রত্যক্ষদর্শী শেখ সামশের আলির কথায়, আমাদের এলাকা চিরকালই শান্ত। কিন্তু ইভিএম বিভ্রাটের খবর আর তার পরেই বাহিনীর লাঠিচার্জে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। যদিও প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ওই একই ইভিএমে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ