


নিজস্ব প্রতিনিধি: এসআইআরের বিবেচনাধীন তালিকায় ছিল স্বামীর নাম। শেষ পর্যন্ত তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ে। তা সত্ত্বেও শেষ আশা নিয়ে বৃহস্পতিবার ভোট দিতে স্বামী শেখ নবাবজান আলিকে নিয়ে বুথে গিয়েছিলেন কেশপুর বিধানসভার সরিষাখোলা পঞ্চায়েতের দীঘা গ্রামের বাসিন্দা ইসরাতন বিবি(৫৫)। তালিকা দেখে স্বামীকে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি কেন্দ্রীয় বাহিনী। চোখের জল ফেলে ইসরাতন ভোটকেন্দ্রে ঢুকেছিলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে টোটোয় উঠতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকের অনুমান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু
হয়েছে। এদিন রাজ্যে আরও পাঁচজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
কেশপুরের মৃত প্রৌঢ়ার স্বামী নবাবজান বলেন, নভেম্বর মাস থেকে দুশ্চিন্তায় ভুগছি। কেউ বলছিল বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে, কেউ আবার ডিটেনশন ক্যাম্পের ভয় দেখাচ্ছিল। আমার নাম না ওঠায় স্ত্রী খুবই দুশ্চিন্তায় ভুগছিল। স্ত্রীর মৃত্যুর দায় কে নেবে? বারংবার সমস্ত নথি নিয়ে যাওয়ার পরও কেন আমার নাম উঠল না? কেশপুরের তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন।
এদিন জয়পুরের উপর জগন্নাথপুরে ভোট দিতে এসে অসুস্থ হয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম কাশেম চৌধুরী(৮১)। তাঁর বাড়ি কাশিচটা গ্রামে। কাশেম সাহেব এদিন বিকালে বুথে ভোট দেওয়ার পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অভিযোগ, অসুস্থ কাশেম সাহেবকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভোটকর্মী ও বাহিনীকে গুরুত্ব দেয়নি। বুথের ভিতর থেকে বাইরে বের করে দেওয়ার পর স্থানীয়রা গ্রামের আটচালায় শুইয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। এরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়রা এসে বুথে বিক্ষোভ দেখান। তৃণমূল কংগ্রেসের জয়পুর ব্লক সভাপতি অনুপ চক্রবর্তী বলেন, একজন ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা এর ধিক্কার জানাচ্ছি। মৃতের পরিবারের লোকজন জানান, কাশেম সাহেব বাড়ি থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে বুথে সাইকেলে করে যান। ভোটার কার্ড আনতে ভুলে যাওয়ায় ফের বাড়ি গিয়ে তা আনেন। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে ঢুকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে। বুথের প্রিসাইডিং অফিসার স্বপনকুমার মহান্তি বলেন, ওই বৃদ্ধ ভোট দেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। তাঁকে বারান্দায় বের করে জল দেওয়া হয়। পরে তাঁকে বারান্দা থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুনলাম তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
এদিন কেশপুর বিধানসভার উচাহার গ্রামে শেখ বাবলু(৬৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তীব্র গরমে ভোট দিয়ে আসার পর তিনি বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পটাশপুর বিধানসভার সাউথখণ্ড পঞ্চায়েতের বামুনবাড় ২৩৪নম্বর বুথে লাইনে দাঁড়িয়ে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম নৃপেন্দ্রনাথ দাস(৫৯)। সকালে বামুনবাড় জুনিয়র হাইস্কুল বুথে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন নৃপেন্দ্রবাবু। আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
ভোট দিতে যাওয়ার পথে সিউড়ি পুরসভার ১০নম্বর ওয়ার্ডের এসপি মোড়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম অসীম রায়(৬৪)। বাড়ি ডাঙালপাড়ায়। এদিন সকালে বাড়ি থেকে হেঁটেই ভোট দেওয়ার উদ্দেশে বেরিয়েছিলেন। সিউড়ি ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ছিল। এসপি মোড়ের কাছে তিনি আচমকা রাস্তার উপর লুটিয়ে
পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের অনুমান, তীব্র দাবদাহের কারণে হিটস্ট্রোকে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
মালদহের মালতিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫২ নম্বর বুথে ভোট দিয়ে বেরনোর সময় বুথেই পড়ে গিয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। মৃতার নাম প্রমীলা বাগদি(৪৭)। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভোট দিয়ে তিনি বুথের বাইরে বেরিয়ে আসার সময় আচমকা পড়ে যান। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে সামসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই মহিলার মৃত্যু হয়েছে।