নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দুই সন্তানকে নিয়ে রাতে ঘুমোচ্ছিলেন এক বধূ। স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগে দরজার তালা ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে ওই বধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল পড়শি এক যুবকের বিরুদ্ধে। সেই সময়ে বাইরে দাঁড়িয়ে ‘পাহারা’ দিচ্ছিলেন আরও এক যুবক। ঘটনাটি মিনাখাঁ থানা এলাকার। ঘটনায় ‘পাহারাদার’ বাবুসোনা মীরকে পুলিস গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত অধরা। মীর স্থানীয় এক দাপুটে তৃণমূল নেতার আত্মীয় বলেই সূত্রের খবর। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বধূর স্বামী কাজের সূত্রে মাঝেমধ্যেই বাড়ির বাইরে চলে যান। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বধূর দিকে ‘কুনজর’ ছিল ওই পড়শি যুবকের। বুধবার রাতেও ওই বধূর স্বামী কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। কাজে যাওয়ার আগে বাড়ির মূল ফটকের দরজায় তালা দিয়ে যান তিনি। অভিযোগ, রাতে দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন ওই যুবক। বাইরে তখন পাহারা দিচ্ছিলেন স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার আত্মীয় বাবুসোনা। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই বধূর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যুবক তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ।
শুধু তাই নয়, বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। এদিকে, নির্যাতিতার কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পেরে বৃহস্পতিবার সকালে ওই তৃণমূল নেতার আত্মীয় বাবুসোনা মীরকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসে জনতা। এরপর তাঁকে তুলে দেওয়া হয় পুলিসের হাতে। এদিনই মিনাখাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে অভিযুক্তর ফাঁসি চেয়েছেন নির্যাতিতা। তিনি বলেন, দরজার তালা ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকেছে বুঝতে পেরে পর টর্চলাইট জ্বালতে যাচ্ছিলাম। তখন আমার হাত থেকে টর্চলাইট ফেলে দেয় ওই যুবক ও বাবুসোনা। তারপরে জোর করে ধর্ষণ করে। আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। আমি আতঙ্কিত। আমি চাই অভিযুক্তদের যেন ফাঁসি হয়।
এদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা মিলন সর্দার বলেন, লজ্জাজনক ঘটনা। অপরাধ করলে আইনত শাস্তি পেতে হবে। এনিয়ে বিজেপি নেতা পলাশ সরকার বলেন, পুলিসের উচিত অভিযুক্ত এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। এনিয়ে বসিরহাট পুলিস জেলার এক কর্তা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আর এক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।