সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: মাঠে কাজ সেরে ফেরার সময় বিষ্ণুপুরের ঢেঙাশোলে এক যুবতীকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাটি বুধবার বিকালে ঘটলেও লোকলজ্জায় নির্যাতিতা বিষয়টি চেপে রেখেছিলেন। কিন্তু, ওই যুবতী ক্রমশ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়ির লোকেদের সন্দেহ হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই যুবতী নির্যাতনের ঘটনা জানান। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিসকে খবর দেওয়া হয়। নির্যাতিতাকে বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম কান্ত মুর্মু। বর্তমানে ওই নির্যাতিতা অসুস্থ রয়েছেন। সুস্থ হলে আদালতে তাঁর বয়ান নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মেডিকেল পরীক্ষাও করানো হবে। নির্যাতিতার বউদি বলেন, আমার ননদ সহ মোট তিনজন মাঠে কাজ করতে গিয়েছিল। বাকি দু’জন জঙ্গলের রাস্তা ধরে আগে আগে যাচ্ছিল। আমার ননদ কিছুটা পিছনে আসছিল। সেই সময় তিনজন যুবক মুখ ঢাকা অবস্থায় তার পথ আটকায়। ননদ জানিয়েছে, দু’জন পাহারা দেয় আর একজনই তাঁর উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। কিন্তু, বাড়ি ফিরে কাউকে কিছু জানায়নি। শুয়ে পড়ে। পরের দিনও সে বিছানা ছেড়ে ওঠেনি। খাওয়া দাওয়াও করেনি। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় সন্ধ্যার সময় জিজ্ঞাসা করলে তখন সে গোটা ঘটনা খুলে বলে। এরপর গ্রামের লোকজন ও পুলিসকে বিষয়টি জানানো হয়। আসল দোষী যাতে উপযুক্ত শাস্তি পায় সে ব্যাপারে পুলিসকে বলা হয়েছে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ বছরের ওই যুবতী অন্যান্য দিনের মতোই বুধবার পাড়ার দুই মহিলার সঙ্গে স্থানীয় মাঠে ধান রুইতে গিয়েছিলেন। বিকালে কাজ সেরে ফেরার সময় অন্য দুই মহিলা এগিয়ে গেলেও যুবতী কিছুটা পিছনে ছিলেন। জঙ্গলের রাস্তা ধরে আসার সময় হঠাৎ তিন যুবক তাঁর পথ আটকায়। তাদের মধ্যে একজন যুবক ওই যুবতীকে জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এদিকে তাঁর সঙ্গে থাকা দুই মহিলা যথারীতি যে যার মতো বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যুবতীর সঙ্গে এতবড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার গোটা ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কেন তাঁরা যুবতীকে সঙ্গে না নিয়ে পিছনে রেখে চলে এসেছিলেন তা নিয়ে আক্ষেপ করতে থাকেন।



