


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: পারিবারিক বিবাদ মীমাংসার নামে পার্টি অফিসে ডেকে এনে মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল বিজেপির এক নেতার বিরুদ্ধে। নির্যাতিতা ওই মহিলা আবার খোদ দলীয় কর্মী। ঘটনার সঙ্গে নদীয়া দক্ষিণের বিজেপির জেলা সংগঠনের একাধিক বিজেপি নেতার নাম জড়িয়েছেন তিনি! চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর থানা এলাকায়। নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে দাবি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। শান্তিপুরের বাসিন্দা ওই মহিলার সঙ্গে তাঁর ভাসুর সহ শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক বিবাদ চলছিল। মাসখানেক আগে তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর সেই বিবাদ বাড়ে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বেশ কিছু কাগজপত্র নিয়ে টানাপোড়েন মেটাতে ওই মহিলাকে ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি পার্টি অফিসে ডেকে পাঠান মহিলার ভাসুর। তিনি সক্রিয় আরএসএস কর্মী বলে দাবি নির্যাতিতার। এছাড়াও ছিলেন ভাসুরের স্ত্রী। ঘটনাচক্রে সেই পার্টি অফিসে নাকি উপস্থিত ছিলেন নদীয়া দক্ষিণ জেলা বিজেপির পদাধিকারী এক নেতা।নির্যাতিতার দাবি,তাঁকে কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার নাম করে পার্টি অফিসে ডেকে পাঠানো হয়। এরপর পার্টি অফিসের দরজা বন্ধ করে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত ভাসুর ও ওই নেতা। তিনি বলেন, ‘আমি ওই নেতার বিপক্ষ লবির বিজেপি কর্মী। তাই আমার উপর এই আক্রোশ মেটানো হয়েছে। আমাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।’
যদিও মহিলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতা। তিনি বুধবার বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমি ওইদিন পার্টির অন্য একটি জনসংযোগের অনুষ্ঠানে ছিলাম। তাও আবার আমাদের রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকারের সঙ্গে। একাধিক তথ্য প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।’ বিজেপির অন্দরের একাংশের দাবি, এই ঘটনা বিজেপির আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি। সম্প্রতি শান্তিপুরের রাজনীতিতে বিজেপির দুই লবির মধ্যে রেষারেষি চরমে। বাইরে থেকে বিজেপি শক্তিশালী বলে দাবি করলেও, ভিতরের গোষ্ঠীদ্বন্ধে জেরবার তারা। বিজেপির জেলা সভানেত্রী অপর্ণা নন্দীকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। নদীয়া দক্ষিণের আমাদের ওই নেতা অধ্যাপক মানুষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি তিনি এ কাজ করতে পারেন না। কারণ, তিনি আমাদের দলীয় কর্মসূচিতে সেদিন অন্যত্র ছিলেন। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি আর যাই হন না কেন, বিজেপি হতে পারেন না। তিনি নিজেকে কোন লবির দাবি করেছে আমি জানি না। তবে, তাঁর অভিযোগ যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত। এদিকে, সুযোগ বুঝে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। শান্তিপুরের বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, ‘নির্বাচনী ভিডিওতে বিজেপি প্রচার করছে বাংলায় নাকি নারী নির্যাতন হচ্ছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তারা অবসান ঘটাবে। এই ঘটনা প্রমাণ যে তাদের পার্টির মহিলারাই নেতাদের লালসার শিকার। বাংলার নারীরা বিজেপির হাতে সুরক্ষিত? মানুষ বিচার করবে। তবে আগে এই ঘটনার তদন্ত হোক। যদি ওই নেতার বিরুদ্ধে চক্রান্তও হয়ে থাকে, সেটাও বিপজ্জনক।’