নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পুরনো ১০ টাকার নোট নিয়ে বচসা। তার জেরে ক্ষিপ্ত অটোচালক ব্যাগ ধরে মহিলা যাত্রীকে প্রায় ২০ মিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল। রাস্তার উপর আছাড় খেয়ে পড়ায় ওই মহিলা যাত্রীর দু’টি দাঁত ভেঙে গিয়েছে। তাঁর কপালও ফেটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সল্টলেকের সি জি ব্লক এলাকায়। জখম মহিলার স্বামী এ ব্যাপারে বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিস অভিযুক্ত অটোচালককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম তপন দাস। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সল্টলেক সেক্টর ৩-এর সি জি ব্লকে থাকেন ব্রততী মুখোপাধ্যায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ স্থানীয় বাজার থেকে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির সামনে অটো থেকে নামার পর তিনি অটোচালককে একটি ১০ টাকার নোট দেন। সেই নোটটি পুরনো ও নোংরা ছিল। আংশিক ছেঁড়া ছিল বলেও অভিযোগ। অটোচালক সেই নোট নিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় অটোচালক এক হাতে ব্রততীদেবীর ব্যাগের ফিতে টেনে ধরে অন্য হাত দিয়ে অটোর অ্যাক্সিলেটরে চাপ দেন।
ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে প্রায় ২০ মিটার টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। ভারসাম্য হারিয়ে ব্রততীদেবী রাস্তায় পড়ে গেলে মুখে মারাত্মক আঘাত লাগে। তাঁর দু’টি দাঁত ভেঙে গিয়েছে। চোট লেগেছে চোয়ালে। গভীর ক্ষত তৈরি হওয়ায় কপালে সেলাই করতে হয়েছে। তাঁর পা ও শরীরের অন্যান্য অংশেও আঘাত লেগেছে। চিকিৎসার পর তিনি এখন কার্যত বাড়িতে শয্যাশায়ী। এর আগে একবার গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর মেরুদণ্ডে চোট লেগেছিল। সেই কারণেই তিনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছাবসর নিয়েছিলেন। বর্তমানে বাড়িতে টিউশনি পড়ান।
এই ঘটনার পর ব্রততীদেবীর স্বামী সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় মঙ্গলবার বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর কমিশনারেটের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অটোচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়ার জন্য বিএনএসের ১২৬ (২) ধারায় এবং মারাত্মকভাবে আঘাত করার জন্য ১১৭ (২) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।