নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সচেতনতামূলক প্রচারই সার! ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে প্রতারণার শিকার হলেন নবদ্বীপের উচ্চ শিক্ষিতা এক মহিলা। ভুয়ো ‘মুম্বই পুলিসে’র গ্রেপ্তারি এড়াতে গিয়ে ২ কোটি টাকা খোয়ালেন তিনি। নিজের বাড়িতেই প্রায় এক মাস ধরে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ হয়ে ছিলেন। এই এক মাসে দফায় দফায় প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছেন ওই মহিলা। একবার ৫২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত একসঙ্গে পাঠিয়েছেন তিনি। হুঁশ ফেরে কোটি কোটি টাকা প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর পর। মহিলার কীর্তিতে হতবাক পুলিসও।
সম্প্রতি নবদ্বীপের সেই মহিলা কৃষ্ণনগর সাইবার থানায় অভিযোগ করেছেন। সেইমতো তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। নদীয়া জেলা ডিজিটাল অ্যারেস্টের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে মোটা অঙ্কের টাকা খোয়ানোর ঘটনা এই প্রথম। সাইবার থানার পুলিস এই ঘটনায় বেশকিছু মোবাইল নম্বর পেয়েছেন। সেই নম্বরগুলি ট্রেস করা হচ্ছে। পাশাপাশি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলোর ব্রাঞ্চ অফিসের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাতে প্রতারকের হদিশ পাওয়া যায়। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, নবদ্বীপের এক মহিলার সঙ্গে ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেছেন। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত নথিপত্র যোগাড় করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই ঘটনার পিছনে কারা যুক্ত, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারিত ওই মহিলার নাম নিধি সাচনা ভাল্লাইল। বর্তমানে তিনি নবদ্বীপের মায়াপুরে থাকেন। আদতে তাঁর বাড়ি কেরলে। স্বামী মারা গিয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগে। তাঁর ৬০ লক্ষ টাকার গোল্ড লোন রয়েছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ জমি এবং স্বামীর রেখে যাওয়া মোটা টাকাও রয়েছে। মাস খানেক আগে, তার কাছে অচেনা নম্বর থেকে মুম্বই পুলিসের নাম করে ফোন আসে। হুমকির সুরে ওই মহিলাকে জানানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যকলাপের মামলা রয়েছে মুম্বইয়ে। তার ভিত্তিতে আপনাকে গৃহবন্দি করে রাখা হল। আপনি আমাদের নজরবন্দি। যা শুনে ঘাবড়ে যান নিধিদেবী। পাশাপাশি ওই মহিলাকে ‘অফার’ও দেওয়া হয়। বলা হয়, এই অ্যারেস্ট থেকে বাঁচতে হলে টাকা পাঠাতে হবে। সেইমতো ওই মহিলা রাজি হয়ে যান। তারপর ২৭ মে থেকে ১৮ জুন পর্যন্ত দফায় দফায় আরটিজিএসের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে থাকেন। রীতিমত টাকার পাঠানোর স্ক্রিনশটও ওয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া নেওয়া করেন। প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই। এই বিপুল টাকা পাঠানোর পর অবশেষে গত ২৪ জুন কৃষ্ণনগর সাইবার থানায় এসে অভিযোগ করেছেন।
এক পুলিস আধিকারিকের কথায়, ওই মহিলা ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলেন। উচ্চ শিক্ষিত তিনি। তারপরেও এইভাবে প্রতারণার জালে জড়িয়ে যাওয়া অপ্রত্যাশিত। ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর তিনি মায়াপুর পুলিস ফাঁড়িতে যোগাযোগ না করেই এক মাস ধরে টাকা পাঠিয়ে গিয়েছেন। ক’ মাস আগে কেরলেরই বাসিন্দা বেটি জোসেফ নামে এক বিধবা মহিলাকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছিল। তাঁর চার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন প্রতারকরা। সেই ঘটনায় কেরল পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কৃষ্ণগঞ্জের বিজেপি নেতা লিঙ্কন বিশ্বাস।