Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় পেটে লাথি, বৈষ্ণবনগরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় পেটে লাথি, বৈষ্ণবনগরে স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
  • ২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালিয়াচক: স্ত্রী গর্ভপাত না করতে রাজি না হওয়ায় পেটে লাথি মারলেন স্বামী। বিষয়টি জানতে পেরে বোনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গেলে দাদাদেরও ব্যাপক মারধর করা হয়েছে। রবিবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বৈষ্ণবনগর থানা এলাকার ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নন্দলালপুর চামাতে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে খবর, বছরখানেক আগে কৃষ্ণপুর মুরাদটোলার যুবতী পপি খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয় নন্দলালপুরের বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনের। পপির পরিবারের দাবি, বিয়ের পর কয়েক মাস পর সবকিছু ঠিক থাকলেও পরবর্তীতে একাধিক মেয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন সাদ্দাম। এমনকী ওই মেয়েদের নিয়ে তিনি বাইরে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যেতেন বলে অভিযোগ পপিদের। বিষয়টি জানাজানি হতেই পপির সঙ্গে সাদ্দামের মনোমালিন্য শুরু হয়। সাদ্দাম মাঝেমধ্যেই এনিয়ে পপিকে ব্যাপক মারধর করতেন। এরই মাঝে গর্ভবতী হয়ে পড়েন পপি। প্রথম দিকে বিষয়টি সাদ্দামের কাছে লুকিয়ে রাখেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিন আগে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয় টের পেয়ে গর্ভপাত করানোর জন্য পপিকে চাপ দিতে শুরু করেন সাদ্দাম। কিন্তু কোনওভাবেই গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে রাজি হননি পপি। এরপরই তাঁকে ফের মারধর শুরু করেন সাদ্দাম।
পপির দাদা আসাদুল শেখ বলেন, আমার বোনের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে গণ্ডগোল চলছিল সাদ্দামের। তিনি পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। বেশ কয়েকবার বোঝানোর চেষ্টা হলেও কারও কথায় কান দেননি তিনি। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার কোনও চেষ্টা করেননি তিনি। বোন কয়েক মাসের গর্ভবতী ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ডাক্তার দেখিয়ে গর্ভপাত করানোর জন্য বলেন সাদ্দাম। বোন রাজি হয়নি বলে এদিন মারধর শুরু করেন। আসাদুলের দাবি, মারধরের সময় সাদ্দাম বোনের পেটে লাথি মারলে অচৈতন্য হয়ে যায়। আমরা দুই ভাই মিলে পপিকে উদ্ধার করে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য গেলে আমাদের‌ও মারধর করেন সাদ্দাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গ্রামবাসীদের সহায়তায় বোনকে উদ্ধার করে বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। অবস্থা সঙ্কটজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। আমরা বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছি।
যদিও সাদ্দামের দাবি, সব ভিত্তিহীন অভিযোগ। এরকম কিছুই হয়নি। আমাদের বাড়িতে আসাদুলরা এসে মারধর করেছে।
পুলিস জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ