Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরকীয়া সম্পর্কে ফাটল, গলসিতে বধূকে নৃশংস খুন

পরকীয়া সম্পর্কে ফাটল, গলসিতে বধূকে নৃশংস খুন
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরায় প্রেমিকাকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর গাছের সঙ্গে বেঁধে দিল প্রেমিক। তাঁর দু’হাত পিছমোড়া করে বাঁধা হয়। গাছের সঙ্গে গলাতেও কাপড় জড়ানো ছিল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম সজনী মুর্মু(২৮)। বাড়ি গলসির উচ্চগ্রামের কলাবাঁধ এলাকায়। রবিবার সকালে পুরন্দরপুরে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। অতিরিক্ত পুলিস সুপার অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, খুনের অভিযোগে লক্ষ্মীরাম সোরেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার সঙ্গে ওই গৃহবধূর সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি টানাপোড়েন শুরু হয়। তার জেরেই সে খুন করেছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সজনীর সঙ্গে স্বামীর সম্পর্ক ছিল না। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। ওই এলাকারই বাসিন্দা লক্ষ্মীরামের সঙ্গেও তিনি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রথমদিকে সব ঠিক চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি লক্ষ্মীরাম তাঁকে সন্দেহ করতে থাকে। সজনীর সঙ্গে অন্য কারও সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলে সে দাবি করতে থাকে। তা নিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। শনিবার রাতে সে সজনীকে পুরন্দরপুরে দেখা করার জন্য ডাকে। সেখানে তাদের মধ্যে তুমুল বচসা হয়। তারপরই তাঁকে শ্বাসরোধ করে মারা হয়। মৃত্যু ঩নিশ্চিত করার জন্য গাছের সঙ্গে গলায় কাপড় বেঁধে টান দেওয়া হয়। মৃতার মা তুর্কি মুর্মু বলেন, মেয়ে আমাদের কাছে থাকত। ও একটি ধানকলে কাজ করত। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সে বাড়ি ফেরেনি। ভেবেছিলাম আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে। এদিন সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। যে বা যারা ওকে খুন করেছে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। 
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, খুনের অভিযোগে ধৃত যুবকের বাড়ি কোদাইপুর এলাকায়। সেখানে ওই গৃহবধূর এক আত্মীয়ের বাড়ি। ওখানে তিনি মাঝেমধ্যে যেতেন। সেই সূত্রেই তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে দেখা করতেন। সরল বিশ্বাসে শনিবার রাতেও সজনী তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে বচসা চলায় পর ওই গৃহবধূর শাড়ি খুলে গলায় ফাঁস দেওয়া হয়। খুন করার পর অভিযুক্ত নিজের এলাকায় গা ঢাকা দিয়েছিল। পুলিস ওই গৃহবধূর পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ওই যুবকের নাম জানতে পারে। তারপরই তাকে আটক করা হয়। সে পুলিসকে জানিয়েছে, তার সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পরও ওই গৃহবধূ অন্য আর একজনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তা নিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তারপরও সে তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেনি। তা নিয়েই অশান্তি শুরু হয়েছিল। শনিবার রাতে রাগের বশে সে খুন করেছে বলে জেরায় স্বীকার করে বলে পুলিসের দাবি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ