সংবাদদাতা বেলদা: হাসপাতলে যাওয়ার পথে দীর্ঘক্ষণ রেলগেটে আটকে বেঘোরে প্রাণ গিয়েছিল হৃদরোগে আক্রান্ত এক বৃদ্ধের। এখনও সেই স্মৃতি টাটকা বেলদাবাসীর মনে। সেই স্মৃতি মোছার আগেই ফের সেই রেলগেটে ঘটল বিপত্তি। দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে টোটোর মধ্যেই প্রসব করলেন এক প্রসূতি। একের পর এক এই ধরনের ঘটনাই দেখিয়ে দিচ্ছে বেলদায় রেল ওভারব্রিজের প্রয়োজনীয়তা।
শুক্রবার সকালে নারায়ণগড়ের কসবা এলাকা থেকে এক আসন্ন প্রসবাকে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক প্রসূতির আল্ট্রাসোনগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আল্ট্রা সোনোগ্রাফির পরিকাঠামো না থাকায় সেই প্রসূতিকে বাইরে রেল গেট পেরিয়ে বেলদার একটি বেসরকারি ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে কেশিয়াড়ি মোড়ে লেভেল ক্রসিংয়ে আটকে পড়েন তাঁরা। প্রায় আধঘণ্টা লেভেল ক্রসিংয়ে আটকে থাকার সময়ে প্রসব যন্ত্রণা তীব্রতর হয়। কিন্তু যানজটে হাসপাতালে ফেরার রাস্তাও ততক্ষণে বন্ধ। শেষমেশ টোটোর মধ্যেই প্রসব করতে বাধ্য হন প্রসূতি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বলেন, মৃত সন্তান প্রসব করেছেন তিনি।
আশাকর্মী কৃষ্ণা পড়িয়া বলেন, সকালে হাসপাতাল থেকে মায়ের আল্ট্রা সাউন্ড করতে বলা হয়। টোটোতে করে নিয়ে যাওয়ার পথে আটকে পড়ি রেলগেটে। পরপর দু’-তিনটে ট্রেন যাওয়ায় ভিড় জমে গিয়েছিল। হাসপাতাল ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারিনি। টোটোর মধ্যেই প্রসব হয়ে যায়। খুব খারাপ লাগছে। হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারলে হয়তো বাচ্চাটিকে বাঁচাতে পারতাম।
একইভাবে এই রেলগেটে আটকে গত মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেলদার এক বৃদ্ধ। বেলদাবাসী সেদিনও দেখেছিল অসহায়তার সেই চিত্র। উড়ালপুল থাকলে এমন ভাবে বিপদের মুখে পড়তে হতো না। আর কত প্রাণ গেলে তৈরি হবে উড়ালপুল, প্রশ্ন তুলছেন বেলদার বাসিন্দারা।
রেলের এক আধিকারিক বলেন, উড়ালপুলের নকশা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। নারায়ণগড়ের বিধায়ক সূর্যকান্ত অট্ট বলেন, রেল ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে উড়ালপুলের নকশা সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আগামী মাসে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে। আশা করছি চলতি বছরই উড়ালপুলের কাজ শুরু হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষকে আর এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে না।