সংবাদদাতা, কান্দি: কান্দির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে চলছিল তৃণমূল প্রার্থীর প্রচার। পঁচাত্তর ঊর্ধ্ব এক মহিলা প্রার্থীর বেশ সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। হাতে কিছু পরিমাণ মুসুর ডালের বড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। প্রার্থী অপূর্ব সরকার সামনে এসে ওই বৃদ্ধাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেই তিনি আশীর্বাদ করে বলতে থাকেন, দেশ বাঁচাও, দশ বাঁচাও, বাঁচতে চাইলে মমতাকে বাঁচাও।
এতদিন শীল নোড়ায় কলাই পিষে বড়ি তৈরি করে বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায় কেনা মিক্সার গ্রাইন্ডারে কলাই ভাঙছেন তিনি। সোমবার কান্দির তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকারের প্রচারের সময় ওই মিক্সার গাইন্ডারে পেষাই করা মুসুর ডালের বড়ি নিয়েই প্রচার মিছিলের সামনে হাজির হয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়া। সজল চোখে আনন্দে মুসুর বড়ি তৃণমূল প্রার্থীর হাতে তুলে দিতে চাইলেন। তবে প্রার্থী জানালেন, ওটা ‘ডিউ’ থাকল, পরে খেয়ে যাব।
এদিন সকাল ১০টা নাগাদ অপূর্ববাবু কান্দি শহরের রূপপুরে রুদ্রদেবের মন্দিরে পুজো দিয়ে ভোটের প্রথম রোড-শোয়ে বের হন। বেলা ১১টা নাগাদ তিনি রোড-শো শুরু করেন। রুপপুর হয়ে কদতলা ও শেষে তিনসাঁকোয় গিয়ে প্রচার শেষ করেন প্রার্থী। এক ঘণ্টার প্রচারে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। শুরুতেই মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খ বাজিয়ে অভ্যর্থনা জানান তৃণমূল প্রার্থীকে। কার্যত গোটা রাস্তাতেই মহিলারা পুস্পবর্ষণ করতে থাকেন। তবে শোভাযাত্রা কিছুটা যাওয়ার পর ওই বৃদ্ধাকে দেখে থমকে যান অপূর্ববাবু। দেখা যায় রুপপুর ঘোষপাড়ার বৃদ্ধা অপর্ণা রুজ হাতে কিছু পরিমাণ মুসুর ডালের বড়ি নিয়ে মিছিলের সামনে অপেক্ষা করছেন। প্রার্থীর একেবারে সামনে এসে তিনি বলেন, আগে শীল নোড়ায় কলাই পিষে বড়ি বানাতাম। কিন্তু এবার একটা মিক্সার গ্রাইন্ডার কিনতে পেরেছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দু’মাসের টাকা জমিয়ে ওটা কিনেছি। এখন আর কলাই ভাঙতে কষ্ট হয় না। ওই যন্ত্রে মুসুর ডাল পিষে তোমার জন্য বড়ি বানিয়ে এনেছি।
তবে অপূর্ববাবু সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, নির্বাচনী বিধির কারণে আমি তোমার কাছ থেকে কিছু নিতে পারছি না। তবে এটা ডিউ থাকল। মিছিল এগতেই অপর্ণাদেবী বলেন, ওই অপূর্ব না থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারটা পেতাম না। ও বাড়িতে লোক পাঠিয়ে কাগজপত্র ঠিক করে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দিয়েছে। অপূর্ব মুসুর ডালের বড়ি ভালবাসে জানি। তাই ওকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বড়ি উপহার দিতে এসেছিলাম।
চোখ মুছে বৃদ্ধা আরও বলতে থাকেন, আমরা দুঃস্থ পরিবার। খুব কষ্ট করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দু’মাসের টাকা জমিয়ে এই যন্ত্রটা কিনেছি। এখন আরও বেশি ডালের বড়ি বানাতে পারছি।
অপূর্ববাবু বলেন, প্রচার করতে বেরিয়ে এদিন আরও একটি নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করলাম। ওই বৃদ্ধার বড়ি উপহার দেওয়াটা বড় ব্যাপার নয়। ওঁর অন্তরের ভালবাসায় আমি আপ্লুত। এর জন্য আমি নয় ধন্যবাদ প্রাপ্য রাজ্য সরকারের।
এদিন কান্দি মহকুমা জুড়ে অন্য শাসক ও বিরোরী দলের প্রার্থীদেরও প্রচারে দেখা গিয়েছে। কান্দিতে সিপিআই প্রার্থী রেজাউল করিমকে মহালন্দি এলাকায় জনসংযোগ করতে দেখা যায়। ভরতপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মুস্তাফিজুর রহমান সালারে জনসংযোগ সারেন। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষও সালারে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বড়ঞায় বিজেপি প্রার্থী সুখেনকুমার বাগদি বিপ্রশেখর এলাকায় প্রচার সারেন। খড়গ্রামে তৃণমূল প্রার্থী আশিষ মার্জিত ইন্দ্রাণী পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করেন। ওই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহাও পারুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচার করেন।