Bartaman Logo
১ জুলাই, ২০২৬

বাড়িতে ৩ মেয়ে-অসুস্থ স্বামী, ছেড়ে দেওয়ার কাতর আরজি জানান দিল্লির বাসে গণধর্ষিত মহিলা

‘আমি কাউকে কিছু বলব না। দয়া করে আমায় যেতে দিন। স্বামী অসুস্থ। বাড়িতে তিনটি ছোটো ছোটো মেয়ে অপেক্ষা করছে।’ রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তদের কাছে এভাবেই কাকুতি-মিনতি করেছিলেন দিল্লির নির্যাতিতা।

বাড়িতে ৩ মেয়ে-অসুস্থ স্বামী, ছেড়ে দেওয়ার কাতর আরজি জানান দিল্লির বাসে গণধর্ষিত মহিলা
  • ১৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ‘আমি কাউকে কিছু বলব না। দয়া করে আমায় যেতে দিন। স্বামী অসুস্থ। বাড়িতে তিনটি ছোটো ছোটো মেয়ে অপেক্ষা করছে।’ রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তদের কাছে এভাবেই কাকুতি-মিনতি করেছিলেন দিল্লির নির্যাতিতা। বৃহস্পতিবার সামনে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজধানী দিল্লিতে নির্ভয়া কাণ্ডের ছায়া। ১১ মে রাতে বাসের মধ্যে এক মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে চালক ও কনডাকটরের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে উমেশ কুমার ও রমেন্দ্র কুমার নামে উত্তরপ্রদেশের ওই দুই বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত চলছে। এরইমাঝে সামনে এল নির্যাতিতার বয়ান।

Advertisement

ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ওই মহিলা জানান, সুলতানপুরীতে ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। ভাই বাড়ি বদলাচ্ছে। তাই তাঁকে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি ই-রিকশতে চেপে সরস্বতী বিহার পর্যন্ত আসেন। তারপরই এই ঘটনা। নির্যাতিতার কথায়, ‘বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলাম। বেসরকারি বাসটি এসে দাঁড়ায়। বাসের ভিতরে থাকা লোকটির কাছে সময় জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন— উঠে আসুন। কী বলতে চাইছেন, ভিতরে এসে বলুন। আমি বাসে উঠে পড়ি। বাসে উঠতেই ওই লোকটি আমায় ধাক্কা দিয়ে পিছনের দিকে নিয়ে যায়। চলন্ত বাসে আমাকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর নাংলোই রেলস্টেশনের কাছে বাসটি দাঁড় করানো হয়। এবার চালকও আমায় ধর্ষণ করেন। আমি হাতজোড় করে তাঁদের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলাম। কাকুতি-মিনতি করে বলতে থাকি, আমি কাউকে কিছু বলব না। পুলিশের কাছেও যাব না। বাড়িতে তিনটে ছোটো ছোটো মেয়ে অপেক্ষা করছে। অসুস্থ স্বামী রয়েছে। আমায় ছেড়ে দিন। এরপর তাঁরা আমায় ছেড়ে দেন। ওখান থেকে বেরিয়ে এসে তড়িঘড়ি পুলিশকে ফোন করি।’
তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, ততক্ষণে চালক রমেন্দ্র ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দিয়েছেন। কিন্তু আশপাশেই ছিলেন কনডাকটর উমেশ। পুলিশ এসে উমেশকে পাকড়াও করে। রক্তাক্ত অবস্থায় নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ