Bartaman Logo
৩০ জুন, ২০২৬

গ্রামবাসীদের প্রথম শহর ভ্রমণ, অবেগে ভাসলেন আট থেকে আশি

গ্রামের ৫০ জন বাসিন্দা প্রথমবার শহরে গিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে পুজো দিলেন। মিশন শক্তির উদ্যোগে তাঁদের স্বপ্ন পূরণ। বিস্তারিত পড়ুন।

গ্রামবাসীদের প্রথম শহর ভ্রমণ, অবেগে ভাসলেন আট থেকে আশি
  • ৩০ জুন, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

লখনউ, ৩০ জুন: চারিদিক পাহাড়ে ঘেরা গ্রাম। যেদিকেই চোখ যায় শুধু পাহাড় আর জঙ্গল। তার মাঝেই একটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম। শহুরে জীবনধারা থেকে প্রায় কয়েক মাইল দুরে। নেই তেমন যোগাযোগ ব্যবস্থা। না আমোদ-প্রোমোদের ব্যাবস্থা। উত্তরপ্রদেশের চন্দৌলি জেলার নওগড় ব্লকের প্রত্যন্ত পাণ্ডি গ্রামের বহু নারী ও শিশুর কাছে চোখের সামনে শহর দেখা যেন স্বপ্নের চেয়ে কম নয়। একসময়ে মাওবাদী প্রভাবিত এই গ্রামের বাসিন্দাদের অনেকেই জীবনে কখনও শহরে যাননি। তাঁদের এই শহর দেখার স্বপ্ন পূরণ করল যোগী সরকার। 

Advertisement

সোমবার 'মিশন শক্তি' কর্মসূচির উদ্যোগে প্রায় ৫০ জন গ্রামবাসীকে বারাণসী ভ্রমণের সুযোগ করে দিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। যাদের মধ্যে ছিল বেশ কিছুজন মহিলা ও শিশু সদস্য। সম্প্রতি বারাণসী রেঞ্জের ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ পাণ্ডি গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় অনেকেই জানান, তাঁদের আজীবন ইচ্ছা ছিল কাশী বিশ্বনাথ মন্দির সহ বারাণসীর বিভিন্ন ধর্মীয় স্থান দর্শন করার। তাঁদের সেই ইচ্ছাকেই মান্যতা দিয়ে বাসে করে তাঁদের বারাণসীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে গ্রামবাসীরা কাশী বিশ্বনাথ মন্দির, বিশালাক্ষী দেবী মন্দির, দুর্গা কুণ্ড মন্দির এবং সংকট মোচন হনুমান মন্দিরে পুজো দেন। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। 

পরে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি মলে। সেখানে পৌঁছতেই তাদের প্রতিক্রিয়া ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে প্রথমবার শহুরে জীবন, ঝকঝকে দোকান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং বিশেষ করে চলন্ত সিঁড়ি দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েন গ্রামের মানুষ। প্রথমে কিছুটা দ্বিধায় থাকলেও পরে সাহস করে একে একে সেই চলন্ত সিঁড়িতে ওঠেন তাঁরা। 

গ্রামবাসীরা এখানে এসে একে একে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানায়। এক কিশোরী জানান 'আজ এমন অনেক কিছু দেখলাম, যা আমাদের গ্রামে কখনও দেখা যায় না'। তরুণ প্রজন্মের উৎসাহও ছিল চোখে পড়ার মতো  একজন ছাত্রী জানায়, 'আমি সবসময় জানতে চাইতাম শহর কেমন হয়। আজ প্রথমবার শহরে এসে খুব ভালো লাগছে। আমাদের গ্রামের থেকে একেবারেই আলাদা'। গ্রামবসীদের মধ্যে অকজন ব্যক্তি জানান, তাঁদের গ্রাম এক সময় মাওবাদী সমস্যায় জর্জরিত ছিল।  তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক'। ডিআইজি বৈভব কৃষ্ণ জানান, এই মিশন শক্তি শুধুমাত্র নারী সুরক্ষা নয়, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রত্যন্ত অঞ্চলের নারী ও শিশুদের শহরের পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও বড় স্বপ্ন দেখার মানসিকতা গড়ে তোলার একটি উদ্যোগ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ