নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কোলে বাচ্চা নিয়ে এক মহিলা গৃহস্থ বাড়িতে সামান্য সময় বসতে চেয়েছিলেন। সহানুভূতি দেখিয়ে তাঁকে বসতে দিয়েছিলেন সেই বাড়ির বৃদ্ধা। তার মধ্যেই বড়সড় চুরি করে চম্পট দিল মহিলা! আলমারিতে থাকা লক্ষাধিক টাকার সোনার গয়না ও নগদ টাকা হাতিয়ে চোর পগার পার! বরানগরে এই অভিনব চুরির ঘটনা ঘটেছে দিন আটেক আগে। এখনও অভিযুক্ত মহিলার হদিশ পায়নি পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই এমন ঘটনায় বরানগরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, যাঁদের বাড়িতে চুরি হয়েছে, তাঁদেরই এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় জমা দিতে হয়েছে নতুন পেনড্রাইভে। তারপর পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। আলমবাজার ফাঁড়ির পুলিশের এই ভূমিকা নিয়েও এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বরানগর থানার ২৮/৬, জয়নারায়ণ ব্যানার্জি লেনের বাসিন্দা সঞ্জয় দত্ত। সঞ্জয়বাবু ও তাঁর স্ত্রী দু’জনেই চাকরি করেন। গত ২০ ডিসেম্বর সকালে তাঁরা যথারীতি কাজে চলে যান। বাড়িতে ছিলেন সঞ্জয়বাবুর বৃদ্ধা মা চপলা দত্ত। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ এক মহিলা কোলে বাচ্চা নিয়ে সঞ্জয়বাবুর বাড়িতে আসে। সঙ্গে একটি বছর সাত-আটেকের মেয়েও ছিল। ওই মহিলা কলিং বেল বাজালে চপলাদেবী ছাদ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেন। মহিলা বলে, ‘আপনার বউমাকে চিনি। উনি বাড়িতে আছেন?’ কাজে বেরিয়ে গিয়েছে জানানোর পর ওই মহিলা কিছু সময় বাড়িতে বসতে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বৃদ্ধা স্বাভাবিক সহানুভূতির জায়গা থেকেই তাদের বসতে দেন। ওই মহিলা কোলের শিশু ও সঙ্গে থাকা নাবালিকাকে নিয়ে একটি ঘরে বসেছিলেন। পাশের ঘরে টুকটাক কাজ করছিলেন বৃদ্ধা। মিনিট ১৫ পরে এসে চপলাদেবী দেখেন, সবাই বেপাত্তা। আলমারি খোলা। আলমারিতে থাকা নগদ সাত হাজার টাকা ছাড়াও সোনার হার, চুড়ি সহ প্রায় দেড় থেকে দুই ভরি সোনার গয়না উধাও। সঞ্জয়বাবু তড়িঘড়ি থানাকে পুরো ঘটনা জানান। এরপর আলমবাজার ফাঁড়ির পুলিশ ওই বাড়ি ঘুরেও যায়। অভিযোগ, এরপর পুলিশের তরফে সঞ্জয়বাবুকে বলা হয়, তিনি যেন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জমা দিয়ে যান। ওই ফুটেজ নতুন পেনড্রাইভে জমা দিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়। নিজের কাজে ব্যস্ততার কারণে সেই ফুটেজ সংগ্রহ করতে দেরি হয় সঞ্জয়বাবুর। শনিবার আশপাশের এলাকা থেকে আগন্তুক মহিলার ফুটেজ সংগ্রহ করে ফাঁড়িতে জমা দেওয়ার পর পুলিস কেস দায়ের করে। সঞ্জয়বাবু বলেন, ‘মহিলার সঙ্গের বাচ্চা মেয়েটিকে দেখে পাড়ার এক কাকু পুরোনো সোয়েটার দিয়েছিল। সেই সোয়েটার আমার বাড়িতে ফেলে গিয়েছে। আমাকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় জমা দিতে হয়েছে। এই শনিবার পুলিশ কেস করেছে। পুলিশের কাছে আবেদন, মহিলাকে গ্রেফতারের পাশাপাশি চুরি যাওয়া গয়না তারা উদ্ধার করে দিক।’