Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নামী স্কুলে ভর্তির টোপ দিয়ে ১২ লক্ষের বেশি প্রতারণা, গ্রেপ্তার মহিলা

নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। এভাবে মোট ১২ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

নামী স্কুলে ভর্তির টোপ দিয়ে ১২ লক্ষের বেশি প্রতারণা, গ্রেপ্তার মহিলা
  • ১৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ছেলেকে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার অভিযোগ উঠল। এভাবে মোট ১২ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকী, টাকা নেওয়ার পর জালিয়াতরা ওই স্কুলের নামে ভুয়ো অ্যাডমিশন ফর্ম, টাকা জমার রসিদ দেন অভিভাবিকাকে। এই কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার একবালপুর থানার পুলিস মার্গারেট জেভিয়ার ওরফে সাইলা শামি নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একবালপুর লেনের বাসিন্দা সোমাইলা আসিফ তাঁর ছেলেকে একটি নামকরা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তির চেষ্টা করছিলেন। সেই স্কুলে এ সংক্রান্ত খোঁজখবর করতে গিয়েই মার্গারেটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মার্গারেট সোমাইলাকে জানান, স্কুলের ম্যানেজমেন্টের লোকজন তাঁর পরিচিত। তাই ভর্তির ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হবে না। মার্গারেটের সঙ্গেই ছিলেন রোসি জেভিয়ার ও রিকার্ডো পল জেভিয়ার নামে আরও দু’জন। তাঁরা বেশ কিছু অ্যাডমিশন ফর্ম দেখিয়ে বলেন, ‘এই দেখুন, আমাদের কাছে কতজন এসেছে ভর্তির জন্য।’ এভাবে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের পর অভিযোগকারিণীকে তাঁরা জানান, ভর্তির জন্য ১২ লক্ষের বেশি টাকা লাগবে। মহিলা সেই টাকা দিতে রাজি হয়ে যান। তখন ইউপিআই’র মাধ্যমে অভিযুক্তদের ৬ লক্ষ ৮২ হাজার টাকা পাঠান তিনি। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪-এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লেনদেন চলে। কিছু টাকা নগদেও দেওয়া হয়। সোমাইলাকে ওই স্কুলের ভুয়ো ফর্ম ও মানি রিসিট দেয় অভিযুক্তরা। কিন্তু ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সেই স্কুলে ভর্তির সুযোগ পায়নি শিশুটি। দিনে দিনে অভিযুক্তরা সবাই যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝে  চলতি বছরের ১৭ জুন মহিলা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একবালপুর থানায়। 
তদন্তে নেমে পুলিস দেখে, অভিযুক্তদের মোবাইল বন্ধ। কসবার একটি ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে খালি হাতেই ফিরে আসতে হয় পুলিসকে। মঙ্গলবার সকালে তদন্তকারী অফিসারের কাছে খবর আসে, অভিযুক্ত মার্গারেট কসবার সেই ফ্ল্যাটে এসেছেন। এরপর পুলিস সেখানে হানা দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নাম করে এই কায়দায় প্রতারণা অনেকদিন ধরেই চালাচ্ছিলেন তিনি। স্কুলের সামনে ঘুরে বেড়াতেন তাঁরা। সেখানে আসা অভিভাবক-অভিভাবিকাদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হতো। কেউ সেই টোপ গিললেই শুরু হয়ে যেত টাকা হাতানো। ইতিমধ্যে মার্গারেটের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৬ লক্ষ ৮২ হাজার টাকার হদিশ মিলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ