Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের বিজ্ঞাপন দেখে পরিচয়, ধর্ষণের পর গর্ভপাত তরুণীর, অভিযুক্ত চিকিৎসক ‘অধরা’!

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজ্য তথা দেশের এক নামী ইউরো-অঙ্কোলজিস্টের বিরুদ্ধে।

ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটের বিজ্ঞাপন দেখে পরিচয়, ধর্ষণের পর গর্ভপাত তরুণীর, অভিযুক্ত চিকিৎসক ‘অধরা’!
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে তরুণীর সঙ্গে পরিচয়ের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রাজ্য তথা দেশের এক নামী ইউরো-অঙ্কোলজিস্টের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই চিকিৎসক পূর্ব যাদবপুর এলাকায় একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। গর্ভবতী হন ওই তরুণী। অভিযোগ, তরুণীকে জোর করে গর্ভপাতও করান ওই চিকিৎসক।  তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে পূর্ব যাদবপুর থানা ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস ও ধর্ষণের কেস রুজু করেছে। অভিযোগের পর প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও এখনও অধরা ওই চিকিৎসক।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণী বিয়ের জন্য ম্যাট্রিমোনিয়াল সাইটে বিজ্ঞাপন দেন। সেখানে ওই চিকিৎসকও নিজের নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। তরুণীর প্রোফাইল দেখে পছন্দ হওয়ায় পর তিনি মোবাইলে যোগাযোগ করেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। দুজনে কথা বলতেন।  আলাপ জমে ওঠার পর মার্চ মাসে ওই চিকিৎসক পূর্ব যাদবপুর এলাকায় একটি অভিজাত আবাসনের ফ্ল্যাটে নিয়ে এসে তোলেন ওই তরুণীকে। সেখানে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। ওই চিকিৎসক তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেন বিয়ে করবেন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান তরুণীর সঙ্গে। অভিযোগকারিনী গর্ভবতী হয়ে পড়লে চিকিৎসক জানান, এই অবস্থায় তাঁকে বিয়ে করা সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টি তাঁর পরিবার মেনে নেবে না।  তাঁকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হলে ওই চিকিৎসক তরুণীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। এরপর তাঁকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রভাব খাটিয়ে ওই চিকিৎসক গর্ভপাত করাতে গেলে তরুণী বুঝতে পেরে সেখান থেকে চলে আসেন। অভিযোগকারিনীর দাবি, এরপর ওষুধের মধ্যে কিছু মিশিয়ে গর্ভপাত করান অভিযুক্ত চিকিৎসক। বিয়ে করতেও অস্বীকার করেন।  তারপর তরুণী ১১ আগাস্ট থানায় যান। সেখানে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে দেয় পূর্ব যাদবপুর থানা। অভিযোগ বাড়িতে ফিরে আসার পর অভিযোগকারিনীর  উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন ওই চিকিৎসক। এতে শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান।  তিনি হাইকোর্টের আইনজীবী অর্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হলে, তাঁর পরামর্শমতো ২৫ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ করেন পূর্ব যাদবপুর থানায়। তার ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে। অভিযোগকারিনীর আইনজীবী অর্কবাবুর বক্তব্য, প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও, ওই চিকিৎসক এখনও গ্রেফতার হননি। আর  জোর করে গর্ভপাত করানো, মারধর করে খুনের চেষ্টা এই সংক্রান্ত বিষয় অভিযোগে উল্লেখ থাকলেও, পুলিশ সেই ধারা দেয়নি।  
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযোগকারিণীর বক্তব্য রেকর্ড করে। বাজেয়াপ্ত করেছে জামাকাপড়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসকের রাজ্যে তথা দেশে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। সেই কারণে অভিযোগকারিনীর অভিযোগ ভালো করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁরা চিকিৎসকের খোঁজে ওই ফ্ল্যাটেও গিয়েছেন। কিন্তু পাওয়া যায়নি। যদিও অভিযোগকারিনীর দাবি, এফআইআরের পরেও ওই চিকিৎসক বহাল তবিয়তে হাওড়া, ইএম বাইপাস এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে প্র্যাকটিস করছেন। তারপরেও তাঁকে ধরার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখানো হচ্ছে না।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ